শেখার জন্য কুয়াকাটা

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:১২

  নাফিউর রহমান ইমন

 

সুন্দরবন-১১। পাঁচ তলা বিশিষ্ট বিশালাকার এ লঞ্চে আছে লিফটের সুবিধা যেখান থেকে আকাশ, বাতাস, নদী ও শহরের লাল, নীল, সবুজ, হলুদ আলো দেখা যায়। মুক্ত বিহঙ্গের মত মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন উড়ছি নিকষ কালো অন্ধকারে তারাদের মাঝে। মাঝে একফালি চাঁদের আলোয় পদ্মার ঢেউগুলো চিকচিক করছে। লোকালয় দেখা যায় না। দূরে কয়েকটা লঞ্চ ও মাঝারি সাইজের নৌকা ভেসে থাকতে দেখলাম। লঞ্চ ছুটে চলছে বরিশাল। ভোর চারটার দিকে লঞ্চ বরিশালে পৌঁছলো। বরিশাল থেকে সমুদ্র সৈকতে গিয়ে পৌঁছাতে দশটা বেজে গেল। দূর থেকেই সাগরের গর্জন শোনা গেল। বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়।

সমুদ্রে সে কি ঢেউ! কি উচ্ছ্বাস! মনে হলো হারিয়ে যেতে আর বাধা নেই। এখানে ভয় আছে, উদ্বেগ আছে, উল্লাস আছে, আনন্দ আছে, অজানাকে জানার আকুতি আছে।  পরদিন সূর্যোদয়ের আগেই বাইকে করে চলে গেলাম স্পটে। পূর্ব দিগন্ত আস্তে আস্তে লাল হয়ে উঠলো। সূর্য উঠল রক্তিম আভা নিয়ে। সলিল সমুদ্রের বুক চিরে। বেরিয়ে এল সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুটির মত করে। পরের স্পট। লাল কাঁকড়ার দ্বীপ। হাজারো কাঁকড়া হেঁটে বেড়ায় এখানে। কাছে গেলেই গর্তে ঢুকে পড়ে। অনেক চেষ্টা করে একটাকে ধরলাম। ছবি তুললাম। সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত গঙ্গামতির (গজমতির) জঙ্গল দেখলাম। অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং আদিবাসীদের বসতি রয়েছে। কেরানীপাড়া, মিস্ত্রীপাড়া, সীমা বৌদ্ধ মন্দির, ফাতরার চর, আমখোলাপাড়া, সুটকি পল্লী, আলীপুর বন্দর উল্লেখযোগ্য। এখানে এলে রাখাইন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করা যায়। মিস্ত্রীপাড়া। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে আট কিলোমিটার পূর্বে এর অবস্থান। এখানে রয়েছে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মূর্তি।

কেরানীপাড়ার রাখাইন পল্লীর শুরুতেই রয়েছে ‘কুয়া’। কুয়ার সামনেই রয়েছে প্রাচীন সীমা বৌদ্ধ মন্দির। এতে প্রায় সাঁইত্রিশ মণ ওজনের অষ্ট ধাতুর তৈরি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তি রয়েছে। এসব মন্দিরে এখন গরিব ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে শিক্ষাদান করা হয়। আলিপুর বন্দরে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় মত্স্য ব্যবসা কেন্দ্র। যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় চার কিলোমিটার উত্তরে। বৈচিত্র্যময় এই পৃথিবীতে অনেক কিছুই দেখার আছে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির রাণী সাগরকন্যা কুয়াকাটা।