বাস ও ট্রাকচালক (অপারেটর গ্রেড-সি) পদে ৩১৬ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিআরটিসি। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আবেদনের কার্যক্রম, চলবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ পর্যন্ত।
আবেদনের যোগ্যতা
সম্প্রতি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এবারের প্রতিয়ায় যাদেরকে গাড়ি চালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অষ্টম শ্রেণি পাস হলেই চলবে। আবেদনকারীদের বয়সসীমা হতে হবে ২৬ নভেম্বর তারিখে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর। থাকতে হবে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ি চালনায় কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা।
আবেদন প্রক্রিয়া
এবারের প্রক্রিয়াতে আবেদন করতে হবে হাতে লিখে। অবেদনপত্রে প্রার্থীর নাম, পিতা ও মাতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা (মোবাইল ও ফোন নম্বর উল্লেখসহ), জন্ম তারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের নম্বর ও অভিজ্ঞতা উল্লেখ করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৩ ডিসেম্বর। খামের ওপর পদের নাম, নিজ জেলার নাম এবং কোটা থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে। আবেদনপত্র পাঠাতে হবে চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি), পরিবহন ভবন, ২১ রাজউক এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ ঠিকানায়।
পরীক্ষার পদ্ধতি
বাস ও ট্রাক চালক নিয়োগে কালার ভিশন টেস্ট, লিখিত পরীক্ষা, ড্রাইভিং টেস্ট ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হবে। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রথমে নেওয়া হবে কালার ভিশন টেস্ট। উত্তীর্ণ হলে একই দিনে নেওয়া হবে ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষায় সাধারণ বাংলা, গণিত, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞানসহ গাড়ি চালনার প্রাথমিক নিয়ম-কানুন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য বই পড়লেই ভালো করা যাবে। লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে দিতে হবে ড্রাইভিং টেস্ট বা ব্যাবহারিক পরীক্ষা। ৫০ নম্বরের রোড টেস্ট, এল টেস্ট এবং র্যাম্প টেস্ট দিতে হবে। সব শেষে নেওয়া হবে ১০ নম্বরের ভাইভা। ভাইভা বোর্ডে সিগন্যাল ও মেকানিক্যাল বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়ে থাকে। সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পাঠানো হবে যান চালনার ১৫ দিনের প্রশিক্ষণে। এতে দক্ষতা দেখাতে পারলেই মিলবে নিয়োগপত্র।
পরীক্ষার প্রস্তুতি
লিখিত ও ড্রাইভিং টেস্ট পরীক্ষার ভালো প্রস্তুতি থাকতে হবে। প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার চেয়ে বেশি দেখা হয় গাড়ি চালনার দক্ষতা। মৌখিক পরীক্ষায় মোটরগাড়ি চালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, সিগন্যাল, মোটর যান বিধিমালা ইত্যাদি বিষয়ের প্রাথমিক দিকগুলো সম্পর্কে কতটুকু ধারণা আছে কর্তৃপক্ষ জানতে চায়। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের সঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় সব প্রশ্নই করা হয় মোটর যান সম্পর্কিত। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে সিগন্যাল, ট্রাফিক আইন, ট্রাফিক সাইন, গাড়ি চালনার নিয়ম-কানুন বিষয়ে।
লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার জন্য গাড়ির পার্টস, সিগন্যাল, মোটর যান বিধি, ঝিকঝাক বিষয়গুলোতে ভালো ধারণা রাখতে হবে। সঙ্গে মোটরগাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, প্রাথমিক মেরামত, খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যবহার বিষয়েও ভালো দখল থাকতে হবে। প্রার্থীর গাড়ি চালনার দক্ষতা দেখা হয় ড্রাইভিং টেস্টে। ‘বিআরটিসির ড্রাইভিং ট্রেনিং গাইড’ বইটি পড়লে কাজে দেবে।
বেতনসীমা
নিয়োগ পাওয়ার পর বাধ্যতামূলকভাবে বিআরটিসিতে ১০ বছর চাকরি করতে হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত একজন বাস বা ট্রাকচালক জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩শ’ থেকে ২২ হাজার ৪শ’ ৯০ টাকা পাবেন।
