কর্মক্ষেত্রে যে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই অথচ সেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য অনিয়মের মাধ্যমে ২১ কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশ প্রশিক্ষণে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। এমন অভিযোগের সত্যতা ও দালিলিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতিদমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার কমিশনের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে অভিযান চালিয়ে এ অনিয়মের প্রমাণ পায়।
দুদক সূত্র জানায়, সম্প্রতি দুদক অভিযোগকেন্দ্রে (টোল ফ্রি হটলাইন- ১০৬) অভিযোগ আসে যে, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণের বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই এরূপ অনেক ব্যক্তিকে স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়মের মাধ্যমে বৈদেশিক প্রশিক্ষণে মনোনয়ন দিয়ে রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশ ভ্রমণে পাঠানো হচ্ছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা ও উপসহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে অভিযান পরিচালনা করে। সরেজমিন অভিযানে টিম জানতে পারে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদমর্যাদার ২১ জনকে এপিএ, এনআইএস, ইনোভেশন প্রভৃতি বিষয়ের বৈদেশিক প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হয়েছে, যাদের প্রশিক্ষণের বিষয়ের সঙ্গে কর্মধারার ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই মর্মে দুদক টিম প্রমাণ পায়। এ সময় দুদক টিম পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিট, এমসিআরএএইচ ইউনিট এবং সিসিএসডিপি ইউনিটের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে। নথিপত্র বিশ্লেষণপূর্বক পরবর্তী সিদ্ধান্ত চেয়ে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
