জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক সানওয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার সংশ্লিষ্টতার দায়ে ফেঁসে যেতে পারেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। অভিযুক্ত সানওয়ার সিরাজকে বাঁচানোর চেষ্টা করায় ফেঁসে যেতে পারেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ও উপাচার্যপন্থি শিক্ষক নেতা অধ্যাপক বশির আহমেদও।
জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ফিরোজ-উল-হাসান ও সানওয়ার সিরাজ সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। জাবি থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রভাষক পদে যোগদান করেন। পরে ২০১৬ সালে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও বিভাগের তত্কালীন সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদের সুপারিশে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট সানওয়ার সিরাজের স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন, চারিত্রিক স্খলন, ছাত্রী উত্ত্যক্তকরণ ও বিবাহবহির্ভূত একাধিক অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ তুলে উপাচার্যের কাছে একটি অভিযোগপত্র লিখেন। অভিযোগের অনুলিপি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও রেজিস্ট্রারের নিকট পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। যার একটি কপি ইত্তেফাকের হাতে এসেছে।
সূত্র জানায়, সানওয়ারের বিরুদ্ধে সানোয়ার সিরাজের স্ত্রীর অভিযোগ গ্রহণ করেননি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। বরং অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে উপাচার্য সানওয়ার ও তার স্ত্রীকে ডেকে পাঠান। উপাচার্যপন্থি শিক্ষক সংগঠনের নেতা অধ্যাপক বশির আহমেদকে বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দেন উপাচার্য। পরে তারা তার স্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলতান বিদ্যানিকেতনে চাকরি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।’ এ বিষয়ে অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘আমাকে কেউ মীমাংসার দায়িত্ব দেয়নি। তার স্ত্রী অভিভাবক মনে করে আমাকে বিষয়টি জানান। এটি তাদের পারিবারিক বিষয় হওয়ায় পারিবারিকভাবে সমাধান করতে বলেছি।’ প্রক্টর ফিরোজ-উল- হাসান জানান, ‘আত্মীয় হলেও তার কর্মের দায় আমি কেন নিব। যার কর্মের দায় তাকেই নিতে হবে।’ এ বিষয়ে জানতে উপাচার্যের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
