ফরিদপুরের মধুখালীতে মধুমতি এবং গড়াই নদীর পানি বেড়েই চলেছে। তিন দিনের বৃষ্টির কারণে কামারখালী, আড়পাড়া এবং ডুমাইনের ২০ গ্রামের প্রায় ৫শ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কামারখালী ইউনিয়নে চরাঞ্চলের ১০টি গ্রামের ৩শ ৫০ পরিবার, আড়পাড়া ইউনিয়নে ৭ গ্রামের ৫০টি এবং ডুমাইন ইউনিয়নের দুই গ্রামের ৫০টি পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বন্যাকবলিত কামারখালী ইউনিয়নের চরকসুন্দি, আড়পাড়া, সরবরাজ, বকসিপুর, গয়েশপুর, চর-গয়েশপুর, চর-সালামতপুর, দয়ারামপুর, ফুলবাড়ী, গন্ধখালী গ্রামের নদীর পাশের বেশ কিছু বাড়িঘরসহ প্রায় ৩৫০ পরিবার এবং নতুন করে আড়পাড়ার ইউনিয়নের রাজধরপুর, পশ্চিম আড়পাড়া, সরাইলের মাঠ, ভিটার মাঠ, চেচর বিলা, হারণ খোলা বিল এলাকার ৫০ পরিবার এবং ডুমাইন ইউনিয়নের ভেল্লাকান্দি, নিশ্চন্তপুর এলাকার ৪৫ থেকে ৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
তিনটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান বিশ্বাস বাবু, জাকির হোসেন মোল্যা এবং খুরশীদ আলম মাসুম বন্যার অবস্থার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে পৃথকভাবে জানিয়েছেন বলে তারা নিশ্চিত করেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তিন ইউনিয়নের এ গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ায় ওই এলাকার কৃষকদের প্রায় ২০০ হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষতিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষজন অসহায় অবস্থায় রয়েছে। তবে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি পরিমান নির্নয় করা যায়নি।
মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তফা মনোয়ার নদী ভাঙ্গন ও বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের সহযোগিতার জন্য সরকারিভাবে নগদ অর্থ ও চাউল বিতরণের ব্যবস্থা হবে।
আরও পড়ুন: কৃষকদের সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করা হবে: কৃষিমন্ত্রী
এই সকল গ্রামের গরীব মানুষ কাজ কর্ম করতে না পারায় কষ্টের মধ্যে এবং অনাহারে অর্ধহারে জীবন যাপন করছে। বর্তমান এদের শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রয়োজন।
ইত্তেফাক/নূহু

