সমাজ বিনির্মাণে ছবিয়ালরা

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:১৯

ইমরান হোসাইন

কালুরঘাট ব্রিজ। একটা সিটি বাস থেকে নামলো বিশ-পঁচিশজনের একটা দল, সবার কাঁধে ঝুলছে ক্যামেরা। একজন সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং দিলেন, আশপাশে কী আছে, কত দূর যাবেন, কত ক্ষণ থাকবেন, এরপর কয়টায় শেষ হবে—এইসব। এরপর শুরু হলো ক্যামেরা হাতে ঘোরাঘুরি। কেউ ব্রিজের নিচে ট্রাকে শ্রমিকদের বালু ওঠানোর ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউ ক্যামেরা তাক করেছেন নদীতে বয়ে চলা নৌকার দিকে। ওদিকে একজন খুব কসরত করে মনের মতো একটা ফ্রেম পেয়েছেন বলে হাসি এ-কান ও-কান হয়েছে। নদীর ধারে হাঁটতে হাঁটতে সবাই ঢুকে পড়ল পার্শ্ববর্তী গ্রামে। এরই মধ্যে কেউ কেউ হয়তো তাদের সাংবাদিক ভেবে বসল, কাছে এসে গড়গড় করে বলতে শুরু করল নানা সমস্যার কথা। কেউবা এগিয়ে এসে আবদার করল, ‘একটা ছবি তুলে দেবেন প্লিজ!’ চাটগাঁর ছবিয়ালের সদস্যদের এমন অভিজ্ঞতা হয় হরহামেশাই। কেবল কালুরঘাট নয়, বটতলী রেলওয়ে স্টেশন, রিয়াজউদ্দিন বাজার, সিআরবি, ফিশারি ঘাটসহ চট্টগ্রামের যেকোনো জায়গায় হঠাত্ কখনো আপনার দেখা হয়ে যেতে পারে এই ছবিয়াল দলটির সঙ্গে। ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির ফেসবুকে মোট সদস্যসংখ্যা বর্তমানে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি, সদস্যদের জন্য সারা বছর নানা রকম আয়োজন থাকে সংগঠনে পক্ষ থেকে। নিয়মিত ফটোগ্রাফি বিষয়ক কর্মশালা, ফটো আড্ডা, আর্টিস্ট টক, ফটো ওয়াক হয় বললেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন মুহাম্মদ রুবেল। ফটো আড্ডা বা ফটোওয়াক নিয়ে বললেন সিনিয়র এডমিন মঈন চৌধুরী। সুযোগ পেলেই যে দল বেঁধে ছবি তুলতে বের হন, এই আয়োজনকে তারা বলছেন ফটো ওয়াক। চেনা শহরটাকেও যে কত ভিন্ন ভিন্ন চোখে দেখা যায়, তারই প্রমাণ মেলে এই ‘ছবি হণ্টন’ থেকে। একই জায়গা, অথচ একেকজন ছবিয়ালের ক্যামেরায় ফুটে ওঠে একেক রূপ। ফটো আড্ডায় আলাপ হয় নিজেদের তোলা ছবিগুলো নিয়ে। ভুল করলে সমালোচনা হয়, ভালো করলে সবাই পিঠ চাপড়ে দেয়। আড্ডায় অভিজ্ঞরা নিজেদের মতো করে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন।

এসব কার্যক্রমের ফলাফলও হাতেনাতে পাচ্ছেন চাটগাঁর ছবিয়ালের সদস্যরা। সংগঠনের এডমিন কাজী মো. জহিরুল ইসলামের অর্জনের কথা বলতে গিয়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নাম বললেন এবং জানালেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কারসহ অনেকগুলো অ্যাওয়ার্ড জিতেছে আমাদের সদস্যরা।’ কথাগুলো বলছিলেন সংগঠন আরেকজন সহকারী অ্যাডমিন ইমরান হোসাইন ইমু। আলাপের শেষে মুহাম্মদ রুবেল বলছিলেন, ‘ছবি তুলতে হলে ভালোবাসাটা জরুরি, ছবির জন্য আপনার ভালোবাসা থাকলে এ পথে আপনি সহজেই এগোতেন পারবেন, তরুণ ছবিয়ালের মাঝে সেই ভালোবাসাটা ঢুকিয়ে দিতে চাই, চাই তাদের উত্সাহিত করতে। যারা নতুন ফটোগ্রাফিতে আসতে চায়, তাদের সঠিকভাবে গাইডলাইন দিতে চাই। আর বর্তমানে ফটোগ্রাফি একটি বড় শক্তি, এর মাধ্যমে আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং সমাজ বিনির্মাণে কাজ করতে ও তুলে ধরতে চাই বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের এই অপরূপ বাংলাদেশকে।’ এই লক্ষ্যেই কাজ করছে চাটগাঁর ছবিয়াল।