লাওসের গল্প বলা যায় আবার
কিন্তু সাবানিকেত শহরের কথা জানেই বা ক’জন,
মেকং নদীর পাড়ে অর্গাজমের মৃদু প্রেষণার মতো
পত্রালির শিশিরে আর্দ্র হয় বৃষ্টিবন।
মনে আছে—নির্বাসিত রাজকুমারের ফেলে যাওয়া
ফরাসি কেতার ভিলা,
কোনো একদিন ওখানে আমি ফিরে যাবো,
স্ক্যাচখাতটি হাতে পার্লারে নাঙ শ্রুতদীপা
তোমাকে কি ফের কাছে পাবো?
আগের মতো প্রেষণায় উদ্দীপ্ত হয়ে
মুখে ডাবের সবুজ সলিল মেখে মৃদু হেসে দাঁড়ালে,
হেঁটে যাওয়া তো যায় ভিলার আঙিনায়
অমিতাভ গৌতমের মিনিয়েচার মন্দিরের আড়ালে।
বিকেলে আমি সিরামিকের টি পট কাত করে
তোমার পেয়ালায় ঢেলে দেবো সিলোন টি,
সবুজ পত্র ছড়াবে সোনালি রোদের অনুভব,
মানচিত্রে তুমি খুঁজবে কোথা সে দ্বীপ লঙ্কা
যার উষ্ণ জলে জারিত ভেষজে এত সৌরভ।
মুদিত শাপলায় ম্রিয়মাণ চৌবাচ্চার পাশে বসবে তুমি
তসরে ফুঠে ওঠা স্তনাঞ্চলের ডিপকাটে গাঁথা ব্রোচে প্রবাল,
প্লেয়ারে চ্যান্ট শুনে মিনিয়েচার মন্দিরে একত্রে ধূপ জ্বালা
তোমার প্রসঙ্গে পরিযায়ী পাখি স্মৃতিতে হয় বেসামাল।
মেকংয়ের ওপরে প্রসারিত ভিলার উডেন ডেকে
মত্ত হয়েছিলাম একদিন যুগল নৃত্যে
তোমার দেহে ছিলো ওয়ালজের ধ্রুপদি সাজ,
রিদমিক স্টেপের মর্মরে মথিত চিত্তে
নিবিড়ভাবে দেখেছি চন্দ্রহারে জড়ানো
তোমার ক্ষীণ কটির কাজ।
ফের দেখা হলে নাঙ শ্রুতদীপা
কমলার সবুজ বাকল নখে খুঁটে যুগলে শুঁকবো সুগন্ধি,
ওয়াইনের বোতল খোঁজার অজুহাতে নামবো সেলারে
রাজকুমারের তলকুঠরিতে হবো ফের স্বেচ্ছাবন্দি।
