তর্ক-বিতর্কে শিল্পী সমিতির নির্বাচন

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ২০:০৭

এতদিন প্রশ্ন ছিল শিল্পী সমিতির নির্বাচন কবে হবে। অতঃপর নির্বাচনের তারিখ একদফা পরিবর্তন করে নতুন তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন এফডিসি নানা আলোচনায় সরব। না, ভাববেন না ছবির শুটিং সংখ্যা বেড়ে গেছে! ভাববেন না তারকাদের হাতে প্রচুর কাজ। আলোচনাটা মূলত কে হবেন শিল্পী সমিতির নতুন সভাপতি, সেক্রেটারি কিংবা নেতৃবৃন্দ তা নিয়ে। একজন সিনিয়র শিল্পী খানিক আক্ষেপ করেই বললেন, ‘হাতে ছবি নেই। শিল্পীদের ভেতরে হাহাকার। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এসব বাদ দিয়ে একটা রিয়েলিটি শো করলেই হতো। কিছু ফান্ডও তৈরি হতো। আর আমরা রিয়েলিটি শোর ভেতর দিয়ে নেতাদেরও পেয়ে যেতাম।’

চলচ্চিত্র শিল্পীদের ভেতরে তাই নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় এমন কথাবার্তা অনেকেই বলছেন। অন্যদিকে প্রায় দেড় শতাধিক সদস্যের ভোটাধিকার তুলে নেওয়ার কারণে কিছু সিনিয়র শিল্পীদের ভেতরেও আক্ষেপ গুনতে দেখা গেছে বিদায়ী কমিটিকে নিয়ে। নতুন প্যানেল কয়টি তৈরি হবে তা নিয়েই এখন সংশয়। কারণ মাস দুয়েক আগেই খুব দৃঢ়ভাবে অভিনেতা-প্রযোজক ডি এ তায়েব বলেছিলেন শাকিব খানকে নিয়ে তিনি এবার পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে লড়ছেন। কিন্তু সেই দৃশ্যপট বদলে মৌসুমী ও ডি এ তায়েবকে একসঙ্গে মনোনয়ন ফর্ম কেনার দৃশ্য দেখা গেলে সবাই ভাবলেন তারা নতুন প্যানেল ঘোষণা করছেন। কিন্তু সেটিও হচ্ছে না। তাই মৌসুমী বলছেন এটা চক্রান্ত। ওপর মহলের চাপ এই কথা কেন শিল্পীদের ভেতরে আসবে?

অন্যদিকে মিশা সওদাগর চলচ্চিত্র ছাড়বেন একথা দু-তিনবার বিভিন্ন ইন্টারভিউতে বলেছেন। কিন্তু অভিনয়ে তিনি ছিলেন বরাবরই নিয়মিত। নতুন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারেও কোনো চূড়ান্ত কথা বলেননি। পরিশেষে আবারো মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেলই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল নির্বাচন করছে। মৌসুমী-তায়েব স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন কেন! এ রকম কৌতুহলের ব্যাখ্যা খোদ চিত্রনায়ক ওমর সানী তার ফেসবুক লাইভে বললেন। তিনি জানালেন, ‘মৌসুমীর প্যানেলে রিয়াজ ফেরদৌস, পপিসহ অনেকেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য হাতের ইশারায় তা হচ্ছে না। কিন্তু এতে মৌসুমী থেমে থাকবেন না।’ একথা বলেই তিনি বললেন শিল্পী সমিতি নির্বাচন বন্ধুত্বের নির্বাচন।

কিন্তু ওমর সানীর কথামতো কতটুকু পারস্পরিক বন্ধুত্বের অবস্থান রয়েছে তা আতশকাঁচ দিয়ে মাপতে হবে। এরপরও নির্বাচনকে ঘিরে এফডিসির ফ্লোরের বারান্দাগুলো যে মুখর হয়ে উঠেছে নানা আলোচনায় এটাকেই এখন ইতিবাচক শান্তনা হিসেবে ভাবছেন কেউ কেউ।

মিশা সওদাগর বলেন, ‘সকলের অনুরোধেই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত। আমার বিরুদ্ধে কোনো শিল্পীরই কোনো ক্ষোভ-অভিমান থাকতে পারে না। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে, জায়েদের সঙ্গে নির্বাচন করার জন্য বোধহয় শাকিবের সঙ্গে আমার দূরত্ব তৈরি হবে। কিন্তু সেটিও হয়নি। কারণ আমি সম্পর্কের সততায় বিশ্বাস করি।’

এদিকে শিল্পী সমিতি নির্বাচনকে ঘিরে একাধিক সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করছেন জায়েদ তার ফেসবুক আইডি থেকে। নীতিগতভাবে আমরা এক—এই শ্লোগানকে ঘিরেই শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনটি নতুন এক সম্প্রীতির বন্ধ তৈরি করুক এটিই সকলের প্রত্যাশা। কারণ গত নির্বাচনের নানা অপ্রীতিকর ঘটনার পর থেকে শিল্পীদের ভেতরের সম্পর্ক ক্রমেই দূরত্ব বাড়িয়েছে। সম্প্রতি দেশের নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টিএম ফিল্মসের শুভযাত্রা অনুষ্ঠানে হাসি-ঠাট্টা করে হলেও অভিনেতা আরেফিন শুভ একটি দারুণ সত্য কথা বলেন সবার সামনেই।

একই স্টেজে শাকিব, মীম, বুবলী, শুভ, সিয়ামসহ সবার সামনেই শুভ বলেন, ‘আমরা পেছনে একে অপরের বদনাম করলেও সামনে এসে বলি আমরা সবাই এক পরিবার।’ সত্যিকার অর্থেই শিল্পী সমাজের সম্প্রীতি এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিচ্ছিন্ন এই শিল্পী সমাজের ফাঁক দিয়েই দেশীয় চলচ্চিত্রের অনেক বড় অবক্ষয় হয়ে গেছে। একে রোধ করা খুব প্রয়োজন এখন।