বিফলে গেল দানুস্কা গুনাতিলকার সেঞ্চুরি। চার বছর পর ঘরের মাটিতে আয়োজিত প্রথম ওয়ানডে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিল পাকিস্তান। প্রথম ওয়ানডে পরিত্যক্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তান জিতেছিল। আর তৃতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিকরা জিতল ৫ উইকেটে। এই জয়ের পর পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ বলেছেন, ঘরের মাটিতে ক্রিকেট ফেরার এই সিরিজে জিতে তারা সবাই গর্বিত।
ম্যাচ শেষে সরফরাজ বলছিলেন, ‘এটা (২৯৭) তাড়া করাটা সহজ কাজ ছিল না। আবিদকে কৃতিত্ব দিতে হয়। সে যেভাবে চাপ সামলেছে, তাতে তাকে অভিনন্দন। দলের সব ব্যাটসম্যানরাই এই লক্ষ্য পার করতে পারার জন্য ধন্যবাদ প্রাপ্য। আমাদের ফিল্ডিং খুব ভালো হয়নি। এটাতে উন্নতি করতে হবে। মাঠে দর্শকরা এসে দুই দলকেই সমর্থন জোগানোয় তাদের অনেক ধন্যবাদ।’ সরফরাজ বলছিলেন, ১০ বছর পর করাচিতে খেলতে পেরে তারা পুরো দলই খুব আনন্দ পেয়েছে, ‘আমি এখানে ১০ বছর পর খেললাম। প্রত্যেকে নিজের ঘরের মাঠে খেলতে পছন্দ করে। এখন আশা করি, পাকিস্তানে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হবে। শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টিতে কঠিনভাবে ফিরে আসতে চাইবে। তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কারণ নেই।’
সিরিজ সেরা হয়েছেন দারুণ ফর্মে থাকা পাকিস্তানের সহ-অধিনায়ক বাবর আজম। তিনি ম্যাচ শেষে বলছিলেন, ‘দুই রাত আগে যে সেঞ্চুরিটা করেছিলাম, ওটা ছিল পাকিস্তানের মাটিতে আমার প্রথম সেঞ্চুরি। আমি খুব গর্বিত। আমার আজকের পরিকল্পনাও ছিল যতক্ষণ পারি ব্যাট করব। আমরা এই সিরিজ থেকে অনেক আত্মবিশ্বাস পেলাম। আশা করি এটা টি-টোয়েন্টিতে ধরে রাখতে পারব।’এই শেষ ম্যাচে করাচিতে আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা ২৯৭ রান করেছিল। এই বিশাল স্কোরটা এসেছিল মূলত ওপেনার গুনাতিলাকার কল্যানে। শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিলো শ্রীলঙ্কা। তৃতীয় ওভারেই আরেক ওপেনার ফার্নান্দোর উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ আমির। কিন্তু অধিনায়ক লাহিরু থিরিমান্নে ও ভানুকাকে নিয়ে ইনিংসটা এগিয়ে নেন গুনাতিলাকা। থিরিমান্নে ও ভানুকা প্রত্যেকে ৩৬ করে রান করেন। আর আমিরের বলেই আউট হওয়ার আগে ১৩৪ বলে ১৩৪ রানের ইনিংস খেলেন গুনাতিলাকা। শেষ দিকে ২৪ বলে ৪৩ রান করেন দাসুন শানাকা। মোহাম্মদ আমির ৩ উইকেট তুলে নেন। বিশাল এই স্কোর পাড়ি দিতে গিয়ে পাকিস্তানের কেউ সেঞ্চুরি বা বড়ো ইনিংস খেলেননি। কিন্তু সবাই কমবেশি অবদান রেখেছেন। ১২৩ রানের উদ্বোধনী জুটি করেন ফাখার জামান ও আবিদ আলী। ফাকার ৭৬ ও আবিদ ৭৪ রান করে আউট হন। এরপর মাঝারি দুটো স্কোর করেন বাবর আজম ও সরফরাজ। বাবর ৩১ ও সফরাজ ২৩ রান করেন। আর শেষটা করে দেন হারিস সোহেল ও ইফতিখান আহমেদ। হারিস ৫০ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন। আর ইফতিখান ২২ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
