শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যমুনাগর্ভে!

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫৯

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খোলাবাড়িরচর এলাকায়  যমুনা নদীর ভাঙনে খোলাবাড়ি-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোলাবাড়িরচর উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ চলতি বছর তিনটি গ্রামের প্রায় হাজারও ঘর-বাড়ি এবং শত শত একর ফসলি জমি, গাছপালা, নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত খোলাবাড়িরচর বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ-থানা। নিশ্চিত করেছেন বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ-থানার ওসি মিজানুর রহমান।

নদীভাঙনে গৃহহারা অসহায় মানুষগুলো বিভিন্ন সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে খোলাবাড়িরচর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা। স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায়  হতাশায় রয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

জানা যায়, চলতি বছর ভয়াবহ বন্যার শুরুতেই উপজেলার খোলাবাড়িরচর, বরখাল, চরমাগুরিয়া ও নয়াপাড়া গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙন দেখা দেয়। গত তিন মাসের নদীর ভাঙনে ঐসব এলাকার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প, তিনটি গ্রামের হাজারও ঘর-বাড়ি, খোলাবাড়িরচর উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাবাড়ি-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোলাবাড়িরচর মাদ্রাসাসহ খোলাবাড়ি বাজারের প্রায় ৫০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পাকা রাস্তাসহ শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

অপরদিকে খোলাবাড়িরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৪৪ জন, খোলাবাড়ি-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪৩ জন, খোলাবাড়িরচর মাদ্রাসার প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ মোট প্রায় আট শতাধিক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ঐসব শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।

খোলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম সিরাজী বলেন, সামনে এসএসসি, জেএসসি পরীক্ষা। তাই বাজারের একটি শেড ঘরে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একত্রে কোনোমতে পাঠদানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষার পরিবেশ না থাকলেও বিকল্প কোনো উপায় নেই, কাজেই এ সমস্যা উত্তরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সবিনয় এর সমাধান চাচ্ছি।

খোলাবাড়ি-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম কাওসার বলেন, এবছর জুলাই মাসের ১৭ তারিখে আমার স্কুল ভেঙে গেছে। বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় বিকল্প কোনো জায়গা না পেয়ে বাজারের কোণে একটি ঘরে গাদাগাদি করে কোনোমতে পাঠদানের কাজ করছি। সামনে সমাপনী পরীক্ষায় বাচ্চাদের যেভাবে পড়াশোনার দরকার, সেভাবে তাদের পাঠদান মোটেও সম্ভব হচ্ছে না।

খোলাবাড়িরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আন্জুমান আরা, রহিমা, সায়মা, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমেনা, আসমা, সুমন নজরুল জানায়, বাজারের মধ্যে খোলামেলা জায়গায় ক্লাস করছি। এ রকম বাজারের মধ্যে ক্লাস করা আমাদের অনেক কষ্ট হয়। তাছাড়া সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে, তাই হাটের দুই দিন পড়ালেখা বন্ধ থাকে। অপরদিকে যমুনা নদী ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত খোলাবাড়িরচর বাহাদুরাবাদ নৌ-থানা। বর্তমানে ঐ থানার কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ-থানার ওসি মিজানুর রহমান। এলাকাবাসী জানায়, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ-থানা নদীগর্ভে বিলীন হবে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ জানান, বর্তমানে সাময়িকভাবে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি। ভবিষ্যত্ স্থায়ী সমাধানের জন্য কারিগরি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে বলে জানান।

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, যমুনার ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য বাহাদুরাবাদ থেকে শুরু করে সরিষাবাড়ি পর্যন্ত একটি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাঁধ নির্মাণের কাজটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে স্থায়ী সমাধান হবে বলে উল্লেখ করেছেন।