দেশব্যাপী আজ দুর্গোত্সব শুরু

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০২

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহত্ ধর্মীয় উত্সব শারদীয় দুর্গাপূজা উত্সাহ ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। সারাদেশের পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলোতে উত্সবের প্রস্তুতি সম্পন্ন। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে পাঁচ দিনব্যাপী চলবে পূজা। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

নরসিংদী: পূজাকে ঘিরে নরসিংদী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নরসিংদীর পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্ এ উত্সবকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এবার নরসিংদী জেলায় ৩৫৩টি মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে নরসিংদী সদরে ৯৯টি, মনোহরদীতে ৪৪টি, রায়পুরায় ৬৮টি, বেলাবতে ২২টি, পলাশে ৪৭টি ও শিবপুরে ৭৩টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এবার ব্যয়বহুল দুর্গাপূজার আয়োজন করেছে শহরের মধ্যকান্দাপাড়ার বাগবিতান ক্লাব ও সেবা সংঘের দুর্গা মন্দির।

মধুখালী (ফরিদপুর): মধুখালী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে দুর্গাপূজা উদ্যাপনে ১৪৬টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি এবং মন্দিরে মন্দিরে সাজসজ্জা আর রঙ-তুলির কাজ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তফা মনোয়ার জানান, শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উত্সব পালনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ রায় জানান, মেগচামীতে ২৫টি, রায়পুরে ১৬টি, গাজনায় ১৬টি, কোড়কদীতে ১৫টি, নওপাড়ায় ১২টি, ডুমাইনে ১১টি, বাগাটে ১১টি, কামারখালীতে ১০টি, আড়পাড়াতে আটটি, জাহাপুরে ছয়টি, কামালদিয়ায় পাঁচটি এবং পৌরসভাতে ১১টি মন্দিরে দুর্গাপূজা হচ্ছে।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ৫৬টি স্থায়ী-অস্থায়ী পূজামণ্ডপে দুর্গোত্সব উদ্যাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ গৌরীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অরুন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র কর জানিয়েছেন, এ বছর গৌরীপুর পৌর শহরে ১৫টিসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সর্বমোট ৫৬টি পূজা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কালীখলা বাজার কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শংকর ঘোষ পিলু বলেন, প্রশাসনসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় সবকিছু ভালোভাবেই চলছে।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ): উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে ৩৫টি সার্বজনীন ও পাঁচটি ব্যক্তিগতসহ ৪০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। ইউএনও মাহফুজুল আলম মাসুম জানান, দুর্গোত্সব শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাণীনগর (নওগাঁ): রাণীনগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি চন্দন কুমার মোহন্ত বলেন, রাণীনগর উপজেলায় ৫০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল হক বলেন, ইতিমধ্যে প্রতিটি পূজামণ্ডবগুলো পরিদর্শন করেছি। এ উত্সব শান্তিপূর্ণভাবে পালন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কালাই (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ২৭টি পূজামণ্ডবে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২৭টি পূজামণ্ডপেই প্রতিমাগুলো খড়-কুঞ্চি, মাটি, নানা রঙ ও বাহারি পোশাকে সাজানোর কাজ শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কালাই উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী উত্তম কুমার মহন্ত বিটল বলেন, শুক্রবার থেকে দুর্গোত্সব শুরু হয়ে আগামী মঙ্গলবার বিসর্জন হবে। এবার ঐসব পূজামণ্ডপে আলোকসজ্জায় ভিন্নতা আনা হয়েছে।

কাহারোল (দিনাজপুর): কাহারোলে ১০০টি পূজামণ্ডপে দুর্গা উত্সব হচ্ছে। উপজেলার বুলিয়াবাজার, মির্জা গ্রামডাঙ্গী, রাঙ্গাচাটার হাট, জয়নন্দ হাট, কামোর হাট, কাহারোল বাজার কেন্দ্রীয় মন্দির, দশমাইল, ঈশ্বর গ্রাম, বটতলীর হাট মন্দিরসহ কয়েকটি মন্দিরে সব প্রস্তুতি শেষ। কাহারোল উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি ভবেশ চন্দ্র রায় জানান, কাহারোল কেন্দ্রীয় মন্দিরে প্রায় ৭০ বছর আগে থেকে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করা হয়।

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ব্যাপক উত্সাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা চলছে। ৬৬টি পূজামণ্ডপে এ উত্সব হচ্ছে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কার্তিক চন্দ্র সরকার জানান, ধর্ম যার যার উত্সব সবার। আমরা আশা করছি সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারের উত্সব সফলভাবে অনুষ্ঠিত হবে।