আমার মনে হয়, যখন যেমন তখন তেমন থাকা উচিত, দাম বেড়েছে, বেশি না কিনে প্রয়োজনীর তুলনায় একটু কম কিনতে পারি। হোটেল-রেস্তোরাঁয় আগে দেখতাম শিঙাড়া, সমুচার সঙ্গে পেঁয়াজ দিত, এখন দেয় না। অনেকের এ প্রবণতা আছে—দাম বেড়েছে, আরো বাড়তে পারে, তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিনে রাখে এটা মনে হয় ঠিক নয়। কোনো সমস্যাই চিরস্থায়ী নয় তাই ধৈর্য থাকাই ভালো।
মো. ফিরোজ আহম্মেদ
মিরপুর-৬, ঢাকা।
গত সোমবার পেঁয়াজের বাজারে নিয়ন্ত্রহীন হয়ে পড়লে সন্তোষজনক মজুত থাকার কথা জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সাবইকে আশ্বস্ত করেছেন। টিসিবি অর্ধেকের কম দামে বিক্রি করছে। অবশ্যই এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দেশের মানুষ সচেতন হলে এবং পেঁয়াজ ব্যবহারে সহনীয় হলেই পেঁয়াজের দাম এমনিতেই কমে আসবে ।
হোসনে আরা করিম নীলা
হাজারীবাগ, ঢাকা।
পেঁয়াজের বাজারে এ অস্থিতরতা নতুন নয়। আবার এই পেঁয়াজের দামের পাশাপাশি অন্যান্য মসলার দামও মাঝেমধ্যে অস্থির হয়ে ওঠে। এতে করে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পেঁয়াজ কম খেলে কোনো সমস্যা নেই।
রনী
রামচন্দ্রপুর, শৈলকুলা, ঝিনাইদহ।
গত বছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের কারণে আমরা দেখেছি পেঁয়াজের দাম কম ছিল। একদিকে ছিল বন্যা, অন্যদিকে দামের কমতির কারণে কৃষকের অনুত্সাহ—এই দুই মিলে অভ্যন্তরীণ উত্পাদন কমে যায়। সুতরাং পেঁয়াজ অভ্যন্তরীণ উত্পাদনে অত্যন্ত মনোযোগী হতে হবে, অন্যদিকে কৃষকদের সঠিক ন্যায্য মূল্যের দিকে নজর ও হিমাগারের তৈরির জন্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজউদ্দিন
পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
পেঁয়াজের দাম নিয়ে এমন কাণ্ড নতুন কিছু নয়। অতীতেও বহুবার হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। আর অবহেলা করা যাবে না পেঁয়াজ উত্পাদনে মনোযোগী হওয়াতে। যেহেতু আমাদের প্রত্যাশা নয় একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে একটি সামান্য পেঁয়াজ আমদানির জন্য চেয়ে থাকা।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যান্ট, ঢাকা।
পেঁয়াজ কম খেলে কিছু আসে যায় না। কিন্তু আমাদের বাঙালিদের মাছ মাংসের রান্নায় যে প্রক্রিয়া তাতে পেঁয়াজের প্রয়োজন হয়। অন্যান্য দেশে তাদের যে খাদ্য তৈরি হয় তাতে পেঁয়াজের পরিমাণ খুব কম লাগে। উদাহরণস্বরূপ জার্মানির প্রধান খাদ্য আলু। এই আলুর ফ্রেস চিপ্স তৈরি করতে পেঁয়াজের প্রয়োজন হয় না। সারা ইউরোপ/আমেরিকাতে ফ্রেস চিপ্স দিয়ে বার্গার তৈরি করে তারা খায়। এজন্যই তাদের কোনো পেঁয়াজের প্রয়োজন হয় না। ভারতেও হিন্দু সম্প্রদায় এবং নিরামিষভোজীরা পেঁয়াজ ব্যবহার করেন না।
খন্দকার কামরুজ্জামান
৩৬৩/১০ উত্তর পীরের বাগ
মিরপুর, ঢাকা
আমাদের দেশে যে দাম একবার বাড়া শুরু করে সেটি বাড়তেই থাকে। এটা হচ্ছে আমাদের দেশের সংস্কৃতি। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে না তাই অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি। আমাদের কথা হচ্ছে আমরা কি নিজেরা উত্পাদন বাড়াতে পারি না? অন্যদিকে হিমাগার তৈরি করে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করাও দরকার।
সুগন্ধী আক্তার
মতিঝিল, ঢাকা।
বর্তমানে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা ২৪ লাখ টন। আর উত্পাদন হচ্ছে ৩০ লাখ ২৭ হাজার টন। কেজির দিকে ঘাটতি ২০০০ টন। মাঠ থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার হার অনেক বেশি। সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সময় নষ্ট হয় পেঁয়াজ ৩০ শতাংশ। ফলে বাজারজাত হয় ১৬ লাখ ৩১ হাজার টন। ঘাটতি থাকে ৮ লাখ টন। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একটি মাত্র পথ হলো প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে হিমাগার তৈরি হলে দেশ ও জনগণ লাভবান হবে।
ডা. মো. জামিল রহমান
গোপালপুর , টাঙ্গাইল
সর্বশেষ ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার বেশি ছিল। বর্তমানে পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। আমরা নিজেরা পেঁয়াজ কম খেলে অসুবিধা কোথায়? পেঁয়াজ কম খেলে কিছুই হয় না। আমরা সুস্বাদু খাবারে পেঁয়াজ ব্যবহার করে থাকি। এটাকে বন্ধ করা যায় কি না ভাবতে হবে।
করিম
রিক, ধানমন্ডি , ঢাকা।
আমার মনে হয় দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। তার পরেও পেঁয়াজ নিয়ে চলছে তুঘলকি কান্ড। এ অবস্থায় পেঁয়াজের নির্ধারিত ৫০ টাকা করে দেশের প্রতিটি হাটবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অসাধু ব্যবসায়ীর শাস্তির আওতায় আনতেই পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মোহাম্মদ মোকাদ্দেম হোসাইন সোয়ান
গ্রাম :পাংগ্রাসী চানপাড়া,
রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ
পেঁয়াজ কম খেলে কোনো ক্ষতি নেই, বরঞ্চ ভালো স্বাস্থ্যের জন্য। আবার দাম বাড়লে একশ্রেণির মানুষ অতিরিক্ত ক্রয় করে ঘরে মজুত করে রাখে। অসাধু ব্যবসায়ীরা এ সুযোগে দাম হাঁকিয়ে বসে থাকেন।
এই পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে—দেশে সব স্থানে খোলাবাজারে টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।
মো. মিজানুর রহমান প্রধান চেয়ারম্যান
গজারিয়া, জেলা- মুন্সীগঞ্জ
পেঁয়াজ না খেলে মানুষ হবে হীনবল। তার কারণ পেঁয়াজের ঔষধি গুণ অনেক। তাই পেঁয়াজের দাম যত বৃদ্ধিই হোক আমরা আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষার কারণে পেঁয়াজ খাওয়া কমাতে পারব না বা ত্যাগ করতে পারব না।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
পেঁয়াজ কম খেলে আমাদের খাওয়ার যে অভ্যাস তা ব্যাহত হবে। এটা অবশ্যই কাম্য নয়। এটা আমাদের শারীরিক, মানসিক ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
মো. আসির খোবায়ের খান মজলিস
৩৫/১, ধানমন্ডি, রোড-৪, ঢাকা
পেঁয়াজের বাজারে আগুন লেগেছে এক মাস আগে। এর কারণ হচ্ছে ভারতীয় বাজারেও পেঁয়াজের মূল্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। সে জন্য আমদানির বিকল্প দেশের পেঁয়াজ আমদানি করে সংকট কাটাতে হবে। অন্যদিকে আমদানিকারককেও এ বিষয়ে সতর্ক নজরদারিতে রাখা একান্ত প্রয়োজন।
আজাদ/মনজু
উত্তরা, ঢাকা
২০/৩০ বছর আগে আমরা শহরে কিংবা গ্রামের মানুষ একটা পেঁয়াজ দিয়ে পান্তাভাত খেতাম। পেঁয়াজ ছাড়া রসনা তৃপ্তি মিটে না আমাদের কারোরই। আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ উত্পাদন হলেও ভারত, মিয়ানমার, মিশর থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে। খাদ্যাভাসে পেঁয়াজ আমাদের অন্যতম উপাদান হয়েছে। আমরা যে জিনিসপত্রের দাম বেশি সে জিনিস কম খেলে এমনিতেই দাম কমে আসবে। অথচ আমরা খাচ্ছি বেশি। আমরা বাঙালি তাই যার দাম বেশি তার দিকে ঝুঁকে পড়ি। যেমন পেঁয়াজ। শুধু শহরে নয়, গ্রামগঞ্জের হাঁটবাজারে পেঁয়াজের ঝাঁঝ লেগেছে। পেঁয়াজ কম খেলে অপচয় প্রতিরোধ করা যাবে। দামও সহনীয় হয়ে আসবে।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী
পেঁয়াজের গায়ে ঝাঁঝ লেগেছে। দিনে দিনে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে। আমাদের অর্থনীতিতে বলে, চাহিদা বেশি হলে দাম বাড়ে এবং জোগানের মাধ্যমে ওঠানামা করে যে কোনো পণ্যের। তাই বর্তমানে পেঁয়াজের যে ঝাঁঝ তাতে করে আমরা যদি পেঁয়াজের ব্যবহার কমিয়ে দেই বা কম খাই তাহলে এমনিতেই এর দাম কমে আসবে।
মো. জুয়েল আলম
মালিবাগ, ঢাকা
এ বছর ভারতে পেঁয়াজ উত্পাদন কম হবার কারণে এর প্রভাব পড়েছে আমাদের বাজারে। প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে আমাদের পেঁয়াজের ব্যবহার অতিরিক্ত রয়েছে। রসনা-বিলাসে তরিতরকারিতে বিশেষ করে গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগিসহ অন্যান্য খাবারে পেঁয়াজ ব্যবহার বেশি করা হয়। সে কারণেও পেঁয়াজের ঝাঁঝ বেড়েছে।
মো. খায়রুল আলম চয়ন
কুতুবখালি, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা
দামে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে পেঁয়াজ। আমদানিকারক, মজুতদার ও বিক্রেতাদের কারসাজিতে হয়েছে এ অবস্থা। এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে তিনগুণ। আমরা আশা করব, পেঁয়াজের দুর্মূল্যের ঝাঁঝ কমাতে নিতে হবে সুপরিকল্পনা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা।
রিফাত
শান্তা মারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরা, ঢাকা
প্রত্যেক গৃহে মসলা ও সবজি হিসেবে পেঁয়াজ ব্যবহূত হয়। এছাড়াও ওষুধ হিসেবে বা অন্যান্য কাজে পেঁয়াজ ব্যবহূত হয়। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজের যোগান কম থাকায় পেঁয়াজ সবজি হিসেবে না খেয়ে মসলা হিসেবে প্রয়োজনের তুলনায় প্রতি গৃহে একটু খেলেই তেমন কোনো ক্ষতি নেই।
মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ
সরদারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
আমি মনে করি, পেঁয়াজ না খেলেও চলে। সারা বিশ্বে মুসলমান প্রধান এলাকাগুলোতে পেঁয়াজের ব্যবহার বেশি। পেঁয়াজের ব্যবহার ভারত, চীনসহ তারা উত্পাদনের জন্য এবং বাজারজাতকরণের এবং মুসলিম এলাকাগুলোতে বিক্রির জন্য সরবরাহ করে থাকে। অথচ উত্পাদনকারীরা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে না।
খায়রুল কবির
সভাপতি, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
অর্থনীতির নিয়মকানুন মেনে চললে আমাদের দেশে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা অবশ্যই সম্ভব হতো। বাজারের পণ্যসামগ্রী যখন চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ হয়ে থাকে, তখনই জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকে। আবার যখন চাহিদা কম থাকে, তখন সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে পণ্যসামগ্রীর দামও নেমে যায়। এটাই অর্থনীতির নিয়ম। কিন্তু আমরা যদি উত্পাদন বৃদ্ধির দিকে নজর না দেই শুধু চাহিদা বৃদ্ধি করে ফেলি তাহলে দেশের অভাব থেকেই যাবে। তাই জাতীয় উত্পাদন দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হওয়া উচিত আমদানি পরিহার করি। দেশীয় পণ্য উত্পাদন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করি।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক
পরিবেশ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি
রাজশাহী
