রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কলাটা খেয়ে খোসাটা ড্রেনে ফেলছি আমরা। বাসার উচ্ছিষ্টগুলো ডাস্টবিনে না রেখে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখছি আমরা। বাসার ময়লা পানি ড্রেনে ফেলছি আমরাই। বিভিন্ন ধরনের খাবারের প্যাকেট ড্রেনে ফেলার কারণেই পানি যেতে পারে না। আর সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের সব পানি রাস্তায় উঠে আমাদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। যখন রাস্তায় হাঁটু পানি হয়, গাড়ি ঠিকমতো চলতে পারে না, কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যেতে পারে না, তখন সেইসব মানুষই কর্তৃপক্ষকে গালাগাল করে। কিন্তু একবারও ভেবে দেখে না— আমার ভুলের জন্য, আমার পাশের বাসার আরেকজন মানুষের ভুলের জন্য পানি যেতে পারছে না। নিজেদের কর্মদোষেই নিজেদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সঙ্গে যারা জড়িত তারা যে একেবারেই দায়ী নয়, তা কিন্তু না। নির্দিষ্ট সময়ে ড্রেনের ময়লাগুলো তারা পরিষ্কার করে না। ছোট খালগুলো দিয়ে যে পানি যাবে তা অগভীর অব্যবস্থায় পড়ে থাকে, ময়লায় ভরা থাকে সবসময়। বর্ষার মৌসুম শুরু হওয়ার আগে প্রয়োজন এসব খাল পুনর্খনন করা, নিষ্কাশন কাজে যারা জড়িত তারা যেন তাদের কাজ যথাযথ সময়ে পালন করে তার কড়া নজরদারি করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। শুধু কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে, নিজের বাসার ময়লাগুলো রাস্তার পাশে, ড্রেনে ফেলে রাখলে সমস্যাটা কর্তৃপক্ষের হবে না, তারা দেখতেও আসবে না আপনাদের সমস্যা কোথায়? কী জন্য হচ্ছে? তাই কর্তৃপক্ষকে দোষ দেওয়ার আগে ব্যক্তিগতভাবে আমি, আপনি সচেতন হলে সেই সুফলটুকু আমি আপনি ভোগ করব। সমালোচনা না করে, একজন সামাজিক জীব হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করার পর যখন দেখবেন ময়লা পরিষ্কার হচ্ছে না, তখন অভিযোগ দিন। সুতরাং আজ থেকেই সচেতন হোন। শুরু হোক আপনার থেকে।
আল-আমিন শুভ
চট্টগ্রাম কলেজে, চট্টগ্রাম
