পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৬

নদীতে পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই দু’চারটি ফেরি বিকল হয়ে পড়ছে। তীব্র স্রোত, ফেরি বিকল ও ঘাট বন্ধ থাকার কারণে কয়েকদিন ধরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ফেরি সার্ভিসের অচলাবস্থা চলছে। ফলে দুই  ঘাটে সৃষ্ট যানজট পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।                 গতকাল বৃহস্পতিবার দুই পাড়ে দীর্ঘ সারিতে পাঁচ শতাধিক  ট্রাক ও তিন শতাধিক বাস ফেরি পারাপারে জন্য আটকে আছে। এদিকে পাটুরিয়া ঘাটে যানজটের কারণে পুলিশ উথলী সংযোগ মোড় থেকে ট্রাক পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ঢুকতে না দিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপর দীর্ঘ সারি করে রাখছে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে পুরাতন এবং ছোটো ইউটিলিটি ফেরিগুলো স্রোতের বিপরীতে চলাচলে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। এসব ফেরি ঘাটে ভিরতে অনেক সময় লাগছে।  স্রোতের কারণে আগে যেখানে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া যেতে একটি ফেরির সময় লাগত ৩০-৩৫ মিনিট  এখন লাগছে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট। তীব্র স্রোতের বিপরীতে চলতে না পাড়ায় মতিউর রহমান, ভাষা শহীদ বরকত,  শাহ জালাল, কাবেরি, সন্ধ্যা মালতি ও ঢাকা ফেরি ঘাটেই নোঙর করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফেরি চন্দ্র মল্লিকা, শাহ আলী ও খানজাহান আলী মেরামতে রয়েছে। এ দুই নৌ-বহরে ১৬টি ফেরির মধ্যে বর্তমানে ৭টি ফেরি চলাচল করছে।

এদিকে দৌলতদিয়াতে ৬টি ঘাটের মধ্যে ৪টি ঘাট সচল রয়েছে। এরমধ্যে আবার তিনটি ঘাট কোনোরকম সচল। বাকি দুটি ঘাট দিয়ে ফেরি লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে।  বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, প্রতিদিনই দু-একটি ফেরি ভাসমান কারখানায় মেরামতে থাকছে। বৃহস্পতিবার ফেরি খানজাহান আলী, শাহ আলী ও সন্ধ্যা মালতি কারখানায় মেরামতে আছে। যানবাহনের চাপ বাড়ার কারণে এ রুটে আরো ফেরি বাড়ানো দরকার বলে তিনি মনে করেন। 

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, প্রবল স্রোত ও ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়াতে ফেরি পন্টুন রাখা সমস্যা হচ্ছে। ফলে ফেরি লোড-আনলোড চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফেরি পারাপারে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়াগামী ফেরি স্রোতের কারণে ৩ কিলোমিটার ভাটিতে চলে যাচ্ছে। এ তিন কিলোমিটার উজান বেয়ে দৌলতদিয়া পৌঁছাতে হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, ১ ও ২ নম্বর ঘাটের মাঝামাঝি স্থান নদী গর্ভে চলে গেছে। এ দুটি ঘাটের পন্টুন রাখা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ১ নম্বর ঘাটের পন্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ২ নম্বর ঘাটের পন্টুন সরানো হচ্ছে। ছয়টি ঘাটের মধ্যে চারটি ঘাটে জোড়াতালি দিয়ে ফেরি লোড-আনলোড করানো হচ্ছে।