নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখেছেন ইসির কর্মকর্তারা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৭

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সম্পৃক্ততা থাকলেও নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তারা। নিখুঁত কারসাজি এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করেছেন তারা। এক্ষেত্রে ইসির অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। তথ্য ইসির তদন্ত কমিটির।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বিগত কয়েক বছর প্রকৃত বাংলাদেশি প্রমাণসাপেক্ষে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েছেন। ইসি কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের এমনভাবে ভোটার করেছেন যে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার এলাকায় ইসির দায়িত্ব পালন করা বড়ো বড়ো কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের ভোটার করে টাকার পাহাড় গড়েছেন। বিশেষ করে বিগত সময়ে দায়িত্বে থাকা কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাটবাড়ি রয়েছে তার।

দীর্ঘদিন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অবহেলার কারণেই রোহিঙ্গারা ভোটার হতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এক শ্রেণির ইসি কর্মকর্তার সহায়তায় কিছু অসাধু কর্মচারী রোহিঙ্গাদের ভোটার করে অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়েছেন। পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে ইসির যেসব ল্যাপটপ ও প্রিন্টার হারিয়ে গেছে সেগুলো কেন এতদিনে উদ্ধার করা হয়নি; কাদের স্বার্থে শুধু মামলা করে বসে থাকা হলো; এনিয়ে ইসিতে ক্ষোভ রয়েছে। এসব হারানো ল্যাপটপে এতদিন রোহিঙ্গাদের ভোটার করাসহ জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

সম্প্রতি কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ ওরফে নুর আলমের কাছে ইসির স্মার্টকার্ড পাওয়ার পর সব মহল নড়েচড়ে বসে। এরপর দুদক, ইসি ও গোয়েন্দা সংস্থা একাধিক অভিযান চালিয়ে ইসির কর্মচারী ও টেকনিক্যাল কর্মচারীদের আটক করে। প্রিন্টার উদ্ধার না করতে পারলেও দুইটি ল্যাপটপ উদ্ধার হয়। এখন গোয়েন্দারা রাঘববোয়াল কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত করছে। কিছুদিনের মধ্যে আরো বড়ো ধরনের অভিযান হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন          অণুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের (সার্ভার) সুরক্ষায় ‘ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড’ (ওটিপি) পদ্ধতি চালু হয়েছে। উপজেলা অফিসের কর্মচারীরা চাইলেও সার্ভারে ঢুকতে পারবে না। রোহিঙ্গাদের ভোটার করা ঠেকাতে আমরা জিরো টলারেন্সনীতি গ্রহণ করেছি, কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’