রংপুরের কাউনিয়া রেলজংশন স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় এক জন মারা গেছে, আহত হয়েছে আরো অন্তত ২১ জন। আহতদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা গুরুত্বর বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। নিহত আপেল (৩০) স্থানীয় খান মঞ্জিল ছাত্রাবাসের ছাত্র বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলস্টেশন সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে সান্তাহার থেকে পঞ্চগড়গামী সেভেন আপ ট্রেনটি কাউনিয়া রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্লাটফর্মে অবস্থান নেয়। এ সময় দায়িত্বরত ড্রাইভার ছাড়াই ফায়ারম্যান দিয়ে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে নিতে গেলে ইঞ্জিনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রেনের যাত্রীবাহী বগিকে সজোরে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যায়, আহত হয় আরো ২১ জন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।
রংপুরের জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাত্ক্ষণিক দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে উদ্ধারে কাউনিয়া থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ শত শত মানুষ ছুটে আসে। দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কাউনিয়া উপজেলা হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে রংপুর মেডিক্যালের চিকিত্সকরা জানান।
কাউনিয়া স্টেশন মাস্টার আব্দুর রশিদ জানান, সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী উত্তরবঙ্গ মেইল সেভেন আপ কাউনিয়ায় আসার পর ইঞ্জিন ঘুরিয়ে নিতে হয়। গতকাল ইঞ্জিন ঘুরিয়ে আনার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী বগিগুলোর পেছনে সজোরে আঘাত করে। এতে দুটি বগি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় জানা গেছে তারা হলেন, ভবেশ, মানিক চন্দ্র, খোদেজা, খাইরুল, সাথী, কহিনুর, আব্দুর রশিদ, আসিয়া, রফিকুল ও আব্দুর রহিম। এছাড়া বাকিদের নাম জানা যায়নি।
রংপুর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা খুরশীদ আলম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক জনের লাশ উদ্ধার ও প্রায় ২০ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
