চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে গ্রেফতারের পর আদালতে নেওয়া হলে সন্ধ্যায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ধুনটের সদরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুলতানকে পুলিশ গোসাইবাড়ী সড়কের চান্দারপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সুলতান মাহমুদ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক তদবির, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ কনস্টেবল, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে মাহমুদ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। সূত্র জানায়, সুলতান মাহমুদ চাকরিপ্রত্যাশীদের রূপালী ব্যাংক ধুনট শাখায় থাকা তার সঞ্চয়ী হিসেবের বিপরীতে একটি করে চেক দিতেন। চাকরি দিতে না পারলে আবেদনকারীরা এক মাসের মধ্যে ঐ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে তার ঐ ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা জমা ছিল না। চাকরি না পেয়ে অনেকে ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ব্যর্থ হন। এ জন্য অনেকে তার বিরুদ্ধে বগুড়ার অর্থঋণ আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা করেন। আদালত থেকে তিনটি মামলায় সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
রূপালী ব্যাংক ধুনট শাখা ব্যবস্থাপক শাহানুল হাসান বলেন, সুলতান মাহমুদের নামে এই শাখায় প্রায় ৭ লাখ টাকা ঋণ আছে। এ ছাড়া সুলতান মাহমুদের স্বাক্ষরিত অর্ধ কোটি টাকার প্রায় সাতটি চেক প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আরো অনেকেই এসেছিলেন।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে দায়ের করা তিনটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। ঐ পরোয়ানায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
