পদ্মা মধুমতি ও গড়াইয়ে পানি বাড়ছে

রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৩

পদ্মা, মধুমতি ও গড়াই নদীতে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে পাবনার ১৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ছুটি বাতিল করা হয়েছে পাউবোসহ ৩ উপজেলার ইউএনও কৃষি কর্মকর্তার। রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষ এবং চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বন্যায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে মধুমতি ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধিতে ফরিদপুরের মধুখালীর তিন ইউনিয়নের ২০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। এবিষয়ে ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

রাজশাহী:পদ্মায় পানি বাড়ায় ঢেউয়ে ভাঙছে যেমন পাড়, তেমনি তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের অনেক বাড়ি-ঘর। ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গরু-ছাগল নিয়ে ছুটতে শুরু করেছে চরের মানুষ। ডুবে গেছে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি। জেলার গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের মানুষ উদ্বেগের মধ্যে বসবাস করছে। 

এদিকে, পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে হুমকির মুখে পড়েছে রাজশাহীর টি বাঁধ। বাঁধ রক্ষায় ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। বাঁধটি রক্ষায় ৫০০ বস্তা জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ লাইনের সামনের বাঁধ রক্ষায় ফেলা হচ্ছে আরও দুই হাজার বস্তা জিও ব্যাগ। অন্যদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

পাবনা:পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে জেলার সদর উপজেলার হিমাইতপুর, ভাঁড়ারা, দোগাছি, চরতারাপুর ইউনিয়ন, ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী, লক্ষীকুন্ডা, সাড়া ইউনিয়ন, সুজানগর উপজেলার ভায়না, সাতবাড়িয়া, নাজিরগঞ্জ, মানিকহাট, সাগরকান্দি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, পাবনা সদর, ঈশ্বরদী ও সুজানগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ায়  ১ হাজার ৫৯২ দশমিক ৫৯ একর জমির বিভিন্ন জাতের ফসলসহ শীতকালিন সবজির ক্ষতি হয়েছে। বুধবার থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু  হয়েছে।

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ):উজান থেকে বয়ে আসা আকস্মিক বন্যায় শিবগঞ্জের পদ্মা ও পাগলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ৪টি ইউনিয়নের প্রায় সম্পূর্ণ ও ২টি ইউনিয়নে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেড়েছে। ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মাষকলাইসহ বিভিন্ন ধরণের প্রায় ৫হাজার হেক্টর  জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কয়েকটি পাকা রাস্তা ভেঙে গিয়ে যাতায়াতের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ খাদ্য সংকট। তাছাড়া গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার।

মধুখালী (ফরিদপুর): ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুমতি এবং গড়াই নদীর পানি বেড়েই চলেছে। এর পাশাপাশি তিন দিনের বৃষ্টির কারণে কামারখালী, আড়পাড়া এবং ডুমাইনের ২০ গ্রামের কয়েকশ’ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। তিন ইউনিয়নের এ গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ২০০ হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষতিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।