গাজীপুরের শ্রীপুরে তিনটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম গজারিগাছের সাঁকো। কয়েকবছর ধরে দুটি গজারি গাছ দিয়ে গ্রামবাসী নিজেরাই ‘সেরার খালের’ উপর এই সাঁকোটি নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।
শ্রীপুর সদরের দুই কিলোমিটার দূরেই গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রাম। ওই গ্রামের পাশেই সেরার খালটি অবস্থিত। খালটির দুই পাশে রয়েছে বাউনী ও সিটপাড়া গ্রাম। তিনটি গ্রাম দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে খালটি। এই খালের দুই পাশে দুটি পিচ ঢালা পাকা সড়ক থাকলেও হেরা পটকা এলাকায় একটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে পাকা সড়কগুলো। সাঁকো পারাপারে বয়স্ক, স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিশু-কিশোর ও নারীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
পটকা গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ জানান, আমাদের মত বৃদ্ধ ও শিশুদের তিন চার কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে শ্রীপুর সদরে যেতে হয়। একটি পাকা সেতু নির্মাণ করলে আমাদের কষ্ট লাঘব হতো। ভয়ের কারণে অনেক বৃদ্ধ ও শিশু সাঁকোতে উঠতে চায় না।
হেরাপটকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা আক্তার জানান, কয়েকটি গ্রাম থেকে অনেক শিশু শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে আসে ঐ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করে।
গোসিঙ্গা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ফারুক আহমেদ জানান, উপজেলা সদরের খুব কাছের এই জনপদ সবচেয়ে অবহেলিত। সারাবছর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কাবিখা, টিআর, কাবিটা ও অতি দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তবে সরকারের এসব প্রকল্পে সেতু নির্মানে কোন বরাদ্দ রাখা হয় না। এরপরও তিনি যখন ইউপি সদস্য ছিলেন তখন গ্রামবাসীদের সহায়তায় গাছ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে আপদকালীন ব্যবস্থা করেছিলেন।
গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাগবে খালের উপর শিগগিরই একটি সেতু নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শামসুল আলম প্রধান।
