আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে বৈঠক করা হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশের (হুজিবি) শীর্ষ নেতা আতিকুল্লাহ ওরফে আসাদুল্লাহ ওরফে জুলফিকার ও তার দুই সহযোগীকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ধর্ষ জঙ্গি রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। গত বুধবার বিকালে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়। আতিকুল্লাহর দুই সহযোগী হলো মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ওরফে শামীম ও বোরহান উদ্দিন রাব্বানী। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক কামরুজ্জামান ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আসামিদের আদালতে হাজির করেন।
জানা যায়, বুধবার বিকালে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার নিকুঞ্জ-২-এর বড়ো মসজিদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। আতিকুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করে দেশে হুজিবিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন। গত মার্চে তিনি দেশে ফেরেন। তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, আতিকুল্লাহ ১৯৯৬ সালে মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে গঠিত হুজিবির কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি বায়তুল মাল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল হন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম দিকে আতিকুল্লাহ দুবাই হয়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। সেখান থেকে একাধিকবার তিনি পাকিস্তানে গিয়ে দেশটির জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেসব বৈঠকে বাংলাদেশে হুজিবিকে সচল করার নানা পরিকল্পনা করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুল্লাহ জানান, তিনি আশির দশকের শেষের দিকে আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে অংশ নেন। বোমা তৈরিতে বিশেষভাবে দক্ষ তিনি । ঐ সময় থেকেই তার সঙ্গে আল-কায়েদার প্রয়াত প্রধান ওসামা বিন লাদেন, তালেবানের সাবেক শীর্ষ নেতা মোল্লা ওমরসহ আল-কায়েদার বর্তমান নেতা আইমান আল জাওয়াহিরির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। গত মার্চে তিনি দেশে এসে নতুন করে হুজিবিকে সংগঠিত করার কাজে নামেন। ইতিমধ্যে তিনি নতুন-পুরোনো অনেক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়া তিনি জেলে থাকা হুজিবি সদস্যদের জামিনে বের করে আনার জন্যও তত্পর ছিলেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তার তত্পরতা ছিল। রোহিঙ্গা ও কাশ্মীর ইস্যু কাজে লাগিয়ে তিনি নতুন সদস্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিলেন। আতিকুল্লাহর সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া নাজিম উদ্দিন হুজিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি হিসেবে এবং বোরহান উদ্দিন রাব্বানী ফেনী জেলার দায়িত্বে আছেন। আতিকুল্লাহর বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভুঁইয়ার দেবরামপুর এলাকায়। তার বাবার নাম হাফেজ আহসান উল্লাহ।
