জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ধর্মঘট শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা। এছাড়া উপাচার্যের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবিতে আচার্য বরাবর চিঠি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে দুই প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। অবরোধের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেন তারা। অধিকাংশ বিভাগেই কোনো ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিশিয়াল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রমে দেখা দেয় স্থবিরতা।
নতুন কর্মসূচি: বিকালে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক। তিনি বলেন, ভিসির অপসারণের দাবিতে ১০ অক্টোবর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন, ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পদযাত্রা ও সমাবেশ, ১৬ অক্টোবর বিক্ষোভ মিছিল, ১৭ অক্টোবর সংহতি সমাবেশ এবং ১৯ অক্টোবর মশাল মিছিল হবে। এছাড়া ছুটির পুরো সময়জুড়ে সংবাদচিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলবে। উল্লেখ্য, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাস ছুটি হওয়ায় লাগাতার আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন আন্দোলনকারীরা।
আচার্যের কাছে চিঠি: গতকাল বিকালে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের সমন্বয়কারী অধ্যাপক রায়হান রাইন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ফ্যাক্সের মাধ্যমে আচার্যের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র নজির আমিন চৌধুরী জয় ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের শুরু থেকেই বিতর্কিত কাজ করায় উপাচার্যের নৈতিক স্খলন ঘটেছে। তিনি এ পদে বহাল থাকতে পারেন না। আমরা তাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করেননি। তাই আমরা তাকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।’
