দীর্ঘ ১৭ বছর পর সকল দলের অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আগামী ১৪ অক্টোবর বাঘা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে অনুষ্ঠিত হবে ইউপি নির্বাচন। দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একজন ব্যতীত সবাই নবীন প্রার্থী। তারা ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, করছেন ভোট প্রার্থনা। থেমে নেই সাধারণ সদস্য প্রার্থীরাও।
সরেজমিনে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলা ৪টি ইউনিয়নের ১৯ জন চেয়ারম্যান, ৬৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং সাধারণ সদস্য পদে ১৭০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোটের মাঠ দখলে রাখতে বিরামহীন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। অনেকেই ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লা ও সড়ক গুলোতে মিছিল-মিটিং করে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দুপুরের পর থেকে শুরু হচ্ছে প্রার্থীদের মাইকিং।
পাকুড়িয়া: এই ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম সরকার। তার প্রতীক নৌকা। রয়েছেন ওই ইউনিয়নের তিনবার নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বাঘা পৌর সভার সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আক্কাস আলী। আছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী ফকরুল হাসান বাবলু। তিনি ১৭ বছর একটানা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মনিগ্রাম: এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের হয়ে লড়ছেন নবীন প্রার্থী প্রভাষক সাইফুল ইসলাম। তার প্রতীক নৌকা। বিএনপির পক্ষে আনারস প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন মাজিবর রহমান জুয়েল। তিনিও নবীন প্রার্থী।
বাজুবাঘা: এখানে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলুর রহমান। অপরদিকে বিএনপির নবীন প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহম্মেদ রনজু আনারস প্রতীক নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
গড়গড়ি: এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন রবিউল ইসলাম রবি। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মাসুদ করিম টিপু। তার প্রতীক টেবিলফ্যান। তবে এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরেও আওয়ামী লীগের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার আলী এখন পর্যন্ত মাঠ চোষে বেড়াচ্ছেন। এতে করে অনেকটা বিপাকে রয়েছেন দলীয় প্রার্থী রবিউল ইসলাম।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা দেছে, বড় দুটি দলের বাইরে ৪ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র হিসাবে যে ১১ জন প্রার্থী হয়েছেন তার মধ্যে গড়গড়ি ইউনিয়নে জুলফিকার ব্যতীত কারো তেমন কোনো অবস্থান নেই। এ দিক থেকে তিনটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। অপর দিকে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে গড়গড়ি ইউনিয়নে।
ইত্তেফাক/অনি
