নিজ কন্যা সন্তানকে নিয়ে ব্রিটেনে ফিরতে চাচ্ছেন ইরানে ৫ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত এক মা। নাজানিন জাগহারি র্যাটক্লিফ (৪০) নামের সেই মা তিন বছর ধরে ইরানের রাজধানী তেহরানে কারাবন্দি আছেন। বৃহস্পতিবার 'এভিন জেল' থেকে একটি খোলা চিঠিতে নিজের এই আকুতি ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ-ইরানিয়ান এই মা।
'দ্য মাদারস অব ইরান' (ইরানের মাবৃন্দ) শিরোনামে লেখা ওই খোলা চিঠিতে জাগহারি ইরান কর্তৃপক্ষের কাছে নিজ কন্যা গ্যাব্রিয়েলাকে নিয়ে লন্ডনে ফিরে যাওয়ার জন্য মানবিক এক আবেদন জানিয়েছেন। ৫ বছরের গ্যাব্রিয়েলাকে এ বছর স্কুলে ভর্তি করাতে লন্ডনে নিয়ে যাবে তার নানা-নানী। জাগহারি তার চিঠিতে লেখেন, 'আমার কন্যা আমার থেকে দূরে চলে গেলে আমার বাঁচার আর কোন আশা থাকবে না। আমার কষ্টের কোন অন্ত থাকবে না সে চলে গেলে। এটা আমার কন্যার জন্যও একটি ভয়ঙ্কর যাত্রা হবে। যে কর্তৃপক্ষ আমাকে আটকে রাখছেন, মা-মেয়েকে আলাদা করে তারা ঘোর অন্যায় করছেন। একজন মা তার মেয়ের স্কুলের প্রথম দিনের সাক্ষী হওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন।'
জাগহারির স্বামী মি. র্যাটক্লিফ জানিয়েছেন, গ্যাব্রিয়েলার মা ব্রিটেনে ফেরার দাবি জোরালো করতে নিজ কন্যার সঙ্গে সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিয়েছেন। গত সপ্তাহেই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গে রাজনৈতিক সাক্ষাৎকালে জাগহারিকে মুক্তি দেয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
আরও পড়ুন: মাফিয়া ডনদের দুষ্টচক্র ভাঙতেই হবে: নাসিম
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে জাগহারি-র্যাটক্লিফকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় ইরান সরকার। কিন্তু জাগহারি তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি ইরানে নিজের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।
নানা-নানীর কাছে বেড়ে ওঠা গ্যাব্রিয়েলাকে এ বছরের সেপ্টেম্বরেই লন্ডনে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু তার মা সেসময় মনোরোগবিদের কাছে চিকিৎসাধীন থাকায়, গ্যাব্রিয়েলাকে রেখে দেয়া হয়। এক সপ্তাহের চিকিৎসা শেষে জাগহারিকে আবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার কারাদণ্ডের মেয়াদ আরও দুবছর বাকি আছে। কিন্তু কন্যা সন্তান থেকে কিছুতেই দূরে থাকতে রাজি নন এই মা। কন্যা বিচ্ছেদের কথা মনে আসলেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন তিনি।
২০১৭ সালে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন বরিস জনসন জাগহারির কারাদণ্ডের ইস্যুতে মন্তব্য করেছিলেন, 'তিনি (জাগহারি) ইরানে সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন।' পরে নিজের এমন মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বরিস।
বিবিসি
ইত্তেফাক/মিশু
