টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বখাটে ও সন্ত্রাসী মামুনের (২৫) নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী নিরীহ পরিবারের বেল্লাল হোসেন ওরফে মিলনের (১৮) দুটি চোখে টেস্টার ঢুকিয়ে অন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
মামলাটি তদন্ত ও স্বাক্ষী প্রমাণ স্বাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে পেনালকোড আইনের ৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩২৬-ক/২০১৯ ধারায় অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার আসামির নাম চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিরা হলো, মামুন (২৫), আলামিন (১৯), কবির হোসেন (২৪) ও হুমায়ুন (৪০)।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আবু সাদেক মির্জাপুর থানায় অভিযোগপত্র নং-২৫০ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে আজ শুক্রবার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আবু সাদেক এবং মিলনের বড় বোন নাছরিন আক্তার জানিয়েছেন। প্রতিবেদন দাখিলের পর আসামি পক্ষ মিলনের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এজন্য পরিবারটি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছে তারা।
সন্ত্রাসীদের আক্রোশের শিকার অসহায় মিলন দুটি চোখ হারিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন। উপজেলার ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নের বানিয়ারচালা রাজাবাড়ি গ্রামে নির্মম এ ঘটনা ঘটেছিল। মিলনের অসহায় মা জাহানারা বেগম (৪৫) ও বড় বোন নাছরিন (২৪) অভিযোগ করেন, বানিয়াচালা রাজাবাড়ি গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মামুন (২৩), মাজেদ দেওয়ানের ছেলে আলামিন (১৯) ও কালিয়াকৈর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের লুলু হোসেনের ছেলে কবির হোসেন(৩৫) গংরা মিলনের চোখে টেস্টার ঢুকিয়ে অন্ধ করে দিয়েছে।
গত ১২ এপ্রিল বিকেলে মামুন, আলামিন ও কবির প্রতারনার ফাঁদে ফেলে মিলনকে গোড়াই মমিননগর নিউটেক্স গ্রুপের সামনে আলিম মুনসির বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় ছাদে নিয়ে মিলনের হাত পা বেঁধে প্রথমে টেস্টার ঢুকিয়ে দুটি চোখ অন্ধ করে দেয় মামুন, আলামিন ও কবির। এছাড়া মিলনকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ঐ সন্ত্রাসীরা মিলনের পরিবারকে ফোন করে জানায় মিলন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছে। আপনারা হাসপাতালে যান। মিলনের পরিবার হাসপাতালে আসার আগেই ঐ সন্ত্রাসীরা হাসপাতাল থেকে সটকে পরে।
আরও পড়ুন: সাভারে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী ব্যারিস্টার গ্রেফতার
মিলনের বাবা গিয়াস উদ্দিন, মা জাহানারা বেগম, বোন নাছিনসহ পরিবারের লোকজন হাসপাতালে এসে জানতে পারেন ঘটনা সম্পুর্ণ উল্টো। সন্ত্রাসী মামুন, আলামিন ও কবির পরিকল্পিতভাবে মিলনকে অন্ধ করে হত্যার চেষ্টা করেছে। কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রপচারের পর মিলনের দুটি চোখ সম্পুর্ণ অন্ধ হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে।
ইত্তেফাক/নূহু
