বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৪৪

জিয়াউল হাসান সবুজ,সহকারী শিক্ষক

গজালিয়া আদশর্ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,বাগেরহাট

 

গতকালের পর

২৯। কোনো শব্দের সাথে সন্ধি গঠিত কারণে শব্দান্তে “ঈ” যোগ হলে অবশ্যই ঈ-কার হবে। যেমন: দায়+ঈ=দায়ী, মন্ত্র+ঈ=মন্ত্রী ইত্যাদি।

৩০। শব্দান্তেয়, ঈয়, অনীয় প্রত্যয় যোগ হলে ঐ শব্দে ঈ-কার হবে। জাতি- জাতীয়, দেশি- দেশীয়, পানি- পানীয়, জল- জলীয়, স্থান- স্থানীয়, স্মরণ- স্মরণীয়, বরণ- বরণীয়, গোপন- গোপনীয়, এভাবে ভারতীয়, মাননীয়, করণীয়, বায়বীয়, প্রয়োজনীয়, পালনীয়, তুলনীয়, শোচনীয়, রাজকীয়, লক্ষণীয় ইত্যাদি।

৩১। রেফের পর ব্যঞ্জন বর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন: অর্চনা, অর্জন, অর্থ, অর্ধ, কর্দম ইত্যাদি।

৩২। ভাষা ও জাতি’র সাথে ই-কার ব্যবহার করতে হবে। যেমন: বাঙালি, জাপানি, ইংরেজি, জার্মানি, ইরানি, হিন্দি, আরবি ইত্যাদি।

৩৩। ব্যক্তির কারী’তে (আরী) ঈ-কার হবে। সহকারী, আবেদনকারী, ছিনতাইকারী, পথচারী, কর্মচারী ইত্যাদি।

৩৪। প্রমিত বাংলা বানানে শব্দের শেষে ঈ-কার থাকলে “গণ” যোগে ই-কার হবে। যেমন: সহকারী > সহকারিগণ, কর্মচারী> কর্মচারিগণ,  আবেদনকারী > আবেদনকারিগণ ইত্যাদি।

৩৫। বেশি’ এবং ‘বেশী’ ব্যবহার: ‘বহু’, ‘অনেক’ অর্থে ব্যবহার হবে ‘বেশি’। শব্দের শেষে যেমন: ছদ্মবেশী, প্রতিবেশী অর্থে ‘বেশী’ ব্যবহার হবে।

৩৬। ‘ত্’-এর সাথে স্বরচিহ্ন যোগ হলে ‘ত’ হবে। যেমন: জগত্> জগতে জাগতিক, বিদ্যুত্> বিদ্যুতে বৈদ্যুতিক, ভবিষ্যত্> ভবিষ্যতে, আত্মসাত্> আত্মসাতে, সাক্ষাত্> সাক্ষাতে ইত্যাদি।

৩৭। ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে যদি শব্দের প্রথমে অ-কার থাকে তা পরিবর্তন হয়ে আ-কার হবে। যেমন: অঙ্গ>আঙ্গিক, বর্ষ>বার্ষিক, পরস্পর>পারস্পরিক, সংস্কৃত>সাংস্কৃতিক, অর্থ>আর্থিক, পরলোক>পারলৌকিক, প্রকৃত>প্রাকৃতিক, প্রসঙ্গ>প্রাসঙ্গিক, সংসার>সাংসারিক, সপ্তাহ>সাপ্তাহিক, সময়>সাময়িক, সংবাদ>সাংবাদিক, প্রদেশ>প্রাদেশিক, সমপ্রদায়>সামপ্রদায়িক ইত্যাদি।

৩৮। সাধু থেকে চলিত রূপের শব্দসমূহ যথাক্রমে দেখানো হলো: আঙ্গিনা>আঙিনা, আঙ্গুল>আঙুল, ভাঙ্গা>ভাঙা, রাঙ্গা>রাঙা, রঙ্গিন>রঙিন, বাঙ্গালি>বাঙালি, লাঙ্গল>লাঙল, হউক>হোক, যাউক>যাক, থাউক>থাক, লিখ>লেখ, গুলি>গুলো, শুন>শোন, শুকনা>শুকনো, ভিজা>ভেজা, ভিতর>ভেতর, দিয়া>দিয়ে, গিয়া>গিয়ে, হইল>হলো, হইত>হতো, খাইয়া>খেয়ে, থাকিয়া>থেকে, উল্টা>উল্টো, বুঝা>বোঝা, পূজা>পুজো, বুড়া>বুড়ো, সুতা>সুতো, তুলা>তুলো।