চোখের যত্নে পুষ্টিকর খাবার

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২০:১৮

রাহেলার বয়স পাঁচ বছর। সুন্দর, ফুটফুটে মেয়ে। কিন্তু দুই চোখে দেখে না। দুই বছর আগে তার জ্বর এবং পাতলা পায়খানা হয়েছিল, তারপর চোখে ঘা হয়ে চোখ নষ্ট হয়ে যায়। রাহেলার মতো এ রকম অনেক শিশুই এমন অন্ধত্বের শিকার।

এমন অন্ধত্বের কারণ :জ্বরের কারণে শিশুর খাবার রুচি কমে যায়, আবার পাতলা পায়খানার কারণে শরীরের পুষ্টিকর উপাদান শরীর থেকে বের হয়ে যায়, ফলে শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি দেখা যায় বলে চোখের পানি শুকিয়ে যায় এবং পরে চোখে ঘা এর সৃষ্টি হয়। একে জেরফথালমিয়া বলা হয়।

কোন ধরনের খাদ্য উপাদান প্রয়োজন

lভিটামিন এ হলো চোখের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। এটা চোখের বিভিন্ন অংশের আবরণকে রক্ষা করে। এর অভাবে চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। চোখের কালো রাজাতে ঘা হয় এবং পরবর্তীকালে

চোখ নষ্ট হয়ে যায়।

lভিটামিন এ-এর সাথে ভিটামিন সি এবং ই এর প্রয়োজনীয়তা আজ বহুলভাবে প্রমাণিত। এদের এক সাথে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বলা হয়। এসব ভিটামিন বয়সজনিত চোখের দৃষ্টিক্ষয় অনেকাংশে রোধ করে।

lপ্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্যের অভাবে চোখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়, ফলে চোখ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।

lআাামাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে অনেক শিশুই ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত কারণে অন্ধত্ব বরণ করছে। এছাড়াও ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে চোখের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ রেটিনা নষ্ট হয়ে যায় বলে প্রথমে রাতকানা এবং পরবর্তীকালে শিশু স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ভিটামিনের অভাবে করণীয়

lভিটামিনের অভাবজনিত চোখের রোগ শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।  শিশুর জন্মের পর মায়ের দুধেই তার জন্যে সর্বোত্তম খাদ্য। মায়ের শাল দুধে প্রয়োজনীতা সব খাদ্য উপাদান থাকে। তাই যেসব মায়েরা শিশুকে প্রথম থেকেই বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস করেন সেসব শিশুদের ভিটামিনের অভাবজনিত অন্ধত্ব অনেক কম হয়। ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সুষম খাদ্যে অভ্যস্ত করতে হবে।

lছোটোমাছ, পাকাফল, শাকসবজিতে প্রচুর ভিটামিন রয়েছে। শিশুকে এসব খাবারে অভ্যস্ত হতে হবে।

lজ্বর এবং পাতলা পায়খানা হলে প্রয়োজনীয় খাবার স্যালাইন এবং সুষম খাদ্য দেয়া প্রয়োজন, যেন শরীরে ভিটামিন এবং লবণের ঘাটতি না হয়।

lশিশু রাতে ঝপসা দেখলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

lডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন এ সময়মতো খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সবচেয়ে বড় কথা ভিটামিনের অভাবজনিত অন্ধত্ব শুধু সুষম খাদ্যে গ্রহণের মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা যায়। এর জন্য প্রয়োজন প্রচার এবং জনসচেতনতা।

 

nডা.  শামস মোহাম্মদ নোমান

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও কনসালট্যান্ট

পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম

চেম্বার :চিটাগাং আই কেয়ারসেন্টার 

মেডিক্যাল কলেজ পূর্ব গেট, চট্টগ্রাম