‘ব্যালইন জালে’ মত্স্যশূন্য হচ্ছে বরগুনার জলাশয়

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০১

জহিরুল হাসান বাদশা, বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি

বরগুনায় খাল ও জলাশয়গুলোতে এক ধরনের সূক্ষ্ম ফাঁসের ব্যালইন জাল (স্থানীয় নাম) পেতে রাখায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে সেখানকার দেশীয় মাছ। শিং, কই, মাগুর, পুঁটি, কোড়াল, বোয়াল, শোল, বেলে, ভেদি, চিংড়িসহ হরেক রকম সুস্বাদু মাছ আর তেমন দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া ছোটো ফাঁসের কারেন্ট জালও মাছ ধ্বংসের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বরগুনার খাজুরতলা, লাকুরতলা, ছোটোবদরখালী, আমতলী, গৌরীচন্না, কুমড়াখালী, কাটাখালীসহ বিভিন্ন গ্রামের খালগুলো সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি খালেই ১০ থেকে ১২টা ব্যালইন জাল পাতা রয়েছে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রথম দিকে মাঠে যখন পানি ওঠে তখনই এ জালগুলো খালের এপার ওপার জুড়ে পেতে রাখা হয়। কোনো কোনো জাল পাতা অবস্থায়ই নষ্ট হয়ে যায়। আবার কোনোটি ভালো থাকলে সিজনের শেষ দিকে ওপরে তোলা হয়। জালগুলো জোয়ার-ভাটায় দিন-রাত পেতে রাখার কারণে নতুন করে আর মাছ খাল-বিলে উঠতে পারে না। একসময় মত্স্যশূন্য হয়ে পড়ে জলাশয়গুলো।

বরগুনার গৌরীচন্না ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান সিকদার বলেন, ব্যালইন জাল তৈরি হওয়ার আগে খাল-বিলে ডোবায় ঝাঁকি জাল দিয়ে প্রচুর ছোটো চিংড়ি, তিতপুঁটি, টেংড়া. চেলা, বাতাশি, গলদা, মলান্দি মাছ পাওয়া যেত। পাওয়া যেত শিং, কই, জাগুর, শোল, গজার, কোড়াল, বোয়াল, টাকি, পাবদা, স্বরপুঁটি, আইড়, ফলইসহ হরেক রকমের দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। ব্যালইন জালের কারণে এ  মাছগুলো আর দেখাই যায় না।

একই কথা জানালেন ছোটোবদরখালী গ্রামের মোতালেব মিয়া, গৌরীচন্নার ইদ্রিস আলী, কুমড়াখালীর মন্নান মিয়া, পাতাকাটার সুধীরসহ অনেকে। জেলার অন্য উপজেলার জলাশয়গুলোরও একই অবস্থা।

এব্যাপারে বরগুনা জেলা মত্স্য অফিসার আ ক ম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ব্যালইন জাল পাতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ জাল পাতা বন্ধ করতে শিগিগরই মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হবে।