১০ বছরে ১৪ হাজার বিয়ে বিচ্ছেদ!
এনামুল হক, খুলনা অফিস
খুলনায় বিয়ে বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে। গত ১০ বছরে খুলনা মহানগরী এলাকায় অন্তত ১৪ হাজার বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। মূলত পারিবারিক বোঝাপড়া ও আস্থার অভাব, নারীদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি, ব্যক্তিত্বের অভাব, মাদকের নীল ছোবল, পরকীয়া প্রেম, একাধিক বিয়ের প্রবণতা এবং অতিমাত্রায় সন্দেহ ও যৌতুকের কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ বাড়ছে।
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র জানায়, গত ১০ বছরে খুলনা করপোরেশন এলাকায় অন্তত ১৪ হাজার বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে ৯৩২টি, ২০১০ সালে ৯৩৩টি, ২০১১ সালে ১ হাজার ৭৪টি, ২০১২ সালে ১ হাজার ১৮১টি, ২০১৩ সালে ১ হাজার ২৫৪টি, ২০১৪ সালে ১ হাজার ৪১৯টি, ২০১৫ সালে ১ হাজার ৪০৪টি, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৪৮৭টি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৫৯৫টি, ২০১৮ সালে ১ হাজার ৭১৯টি এবং ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ২০টি বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে।
এসব তালাকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তালাক দেওয়া পুরুষের সংখ্যা শতকরা মাত্র ৩০ ভাগ, আর নারীর সংখ্যা শতকরা ৭০ ভাগ।
খুলনা সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব, নারী-পুরুষ উভয়ের ভারসাম্যহীন উচ্চাভিলাষী মনোভাব, পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক ভাবধারার অনুকরণ, সাংসারিক বন্ধনের প্রতি উদাসীনতা, পারিবারিক অভিযোজনের আপসহীন মনোভাবের উপস্থিতি ইত্যাদি কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, বিয়ে বিচ্ছেদ প্রতিকারে পারিবারিক সম্পর্ক তৈরিতে বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিবেকের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি দৃঢ়বিশ্বাস স্থাপন, অপসংস্কৃতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহতকরণ, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মর্যাদা প্রদান প্রভৃতি মানসিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ হ্রাস করা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।
কেসিসির সচিব আজমুল হক বলেন, সমাজে তালাক বা ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, পারিবারিক বোঝাপড়ার অভাব, পরস্পরের মধ্যে নির্ভরশীলতা কমা, নারীদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি, পুরুষের ব্যক্তিত্বের অভাব, মাদকের নীল ছোবল, পরকীয়া প্রেম, একাধিক বিয়ের প্রবণতা, অতিমাত্রায় সন্দেহ ও যৌতুক।
