বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর আবাদি জমি

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০৪

দুধকুমার নদে ভাঙন

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় দুধকুমার নদ ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নদীর ভাঙন। দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহের অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার পাইকেরছড়া, চরভূরুঙ্গামারী ও সোনাহাট ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক বাড়িঘর, গাছপালা এবং আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ইসলামপুর জামে মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠ। অপরদিকে সোনাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভরতের ছড়া গ্রামে চৌধুরীবাজার সংযোগ পাকা রাস্তাটিও একইভাবে ভেঙে গেছে। এরই মধ্যে উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামটিতে যাওয়ার একমাত্র  বাঁধটির অধিকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভূরুঙ্গামারীর বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, তার বসতভিটাসহ গত তিন দিনে ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এরই মধ্যে বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে রাস্তা, বাঁধ কিংবা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে এখনো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান, নদীভাঙনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এইচ এম মাগফুরুল হাসান আব্বাসি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে তিন মেট্রিক টন (জিআর) চাল বিতরণ করা হয়েছে। নদীভাঙন প্রতিরোধে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫ হাজার ৫০০ জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।