ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
পূজাকে সামনে করে পশ্চিম সীমান্ত পথে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা, হেরোইন ও বাংলাদেশে ঢুকছে। আর প্রতিদিন বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের হাতে এসব মাদক ধরা পড়ছে। মাদক উদ্ধারের সংবাদ প্রতিদিনই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মিডিয়াকে জানাচ্ছে বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিজিবি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পুরাতন কোলা গ্রামের লুত্ফর রহমানের বাড়ি থেকে ৭৮০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করে। একই দিন র্যাব-৬ এর ঝিনাইদহ ক্যাম্প মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে চুয়াডাঙ্গার আকন্দবাড়িয়া থেকে ২১৯ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী কামাল হোসেন ও দর্শনা থেকে সাড়ে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ অন্তর আলি নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থেকে ৭২ বোতল ফেনসিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
১ অক্টোবর বিজিবির খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার শিংনগর হালদারপাড়ার মাঠ থেকে ৭২ বোতল ফেনসিডিল ও মাধবপুর কলাবাগান থেকে ৩৭ বোতল মদ উদ্ধার করে। ৩০ সেপ্টেম্বর বিকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গোপালপুর মাঠ থেকে ৩২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। ঐ দিন জীবননগর উপজেলার উথলীতে বাস তল্লাশি করে ৬৯ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে বিজিবি। ২৯ সেপ্টেম্বর জীবননগর বিজিবির বিশেষ ক্যাম্পের সামনে বাস তল্লাশি করে ৩২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ঝিনাইদহ গোয়েন্দা পুলিশ ১ অক্টোবর মহেশপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা কলেজের ছাত্র মো. সোহেল রানাকে ৩০ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে। আতিয়ার রহমানকে ৩৮ বোতল ফেনসিডিল ও মিরাজুল ইসলামকে ১ কেজি গাঁজাসহ আটক করে।
ইদানীং লাভ বেশি হওয়ায় ভারত থেকে ফেনসিডিল আসা বেড়েছে। ভারতে এক বোতল ফেনসিডিলের দাম ১৫৪ টাকা ২৭ পয়সা। বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসার পর সাড়ে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি হয় বলে জানা যায়। আর ঢাকায় যাওয়ার পর বিক্রি হয় ১ হাজার ২০০ টাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে ওপার থেকে আসা বিপুল পরিমাণ মাদক নেশাখোরদের কাছে পৌঁছাচ্ছে।
বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রায় প্রতিদিনই পাচার হয়ে আসার পর বিজিবির হাতে মদ, গাঁজা ও ফেনসিডিল ধরা পড়ছে।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা কোনোটাই বাংলাদেশে তৈরি হয় না। সব মাদকই বাইরের দেশ থেকে আসে। মাদকের ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছে। মাদক কারবারিরা অস্বাভাবিক লাভের কারণে জীবনের মায়া করে না বলে তিনি জানান।
