স্পোর্টস রিপোর্টার
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আব্দুস সাদেক সড়কে গড়ে ওঠা সুরম্য ভবনে ঢুকলে যে কোনো ফুটবল অনুরাগীর ভালো লাগবে। প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের অস্থায়ী ক্যাম্প এখানে। ভবনের দেয়ালে দেয়ালে দেখা গেল নেদারল্যান্ডসের ইয়োহান ক্রুয়েফ, রাশিয়ার গোলকিপার লেভ ইয়াসিন, জার্মানির বেকেনবাওয়ার, লোথার ম্যাথিউস, ফ্রান্সের জিদান, পর্তুগালের লুইস ফিগো, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ব্রাজিলের রোনাল্ডো, আর্জেন্টিনার মেসির ছবি। ফুটবলারদের উজ্জীবিত রাখতেই এমনটা করেছেন নীতি নির্ধারকরা। ক্লাব আঙ্গিনায় বসুন্ধরা নিজেদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে রাখল জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ইয়াসিনকে দিয়ে।
শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ছেড়ে কাল বসুন্ধরার ডেরায় ইয়াসিন। জাতীয় দলে ভুটানের বিপক্ষে আগের রাতে জোড়া গোল করেছেন এই ডিফেন্ডার। রাতের আনন্দের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন ক্লাবে নাম লেখানোর আনন্দ। ইয়াসিনের নাম লেখানোর সুবাদে ক্লাব টেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়াসিনকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আয়োজন। ইয়াসিন বললেন, ‘একটা ক্লাবের যা কিছু দরকার বসুন্ধরার সব রয়েছে। নিজেদের মাঠ, জিম, ফ্যান ক্লাব, জার্সির দোকান, সব মিলিয়ে আমি এখানে নাম লিখিয়েছি।’ মোহামেডান আবাহনীর রং ইয়াসিনকে টানে না। ইয়াসিন বললেন, ‘মোহামেডানে খেলেছি ২০১০ মৌসুমে। তিন বছর মোহামেডানে খেলেছি। সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আবাহনীর হয়ে এএফসি কাপে খেলেছি। আবাহনী ভালো দল করার চেষ্টা করে। মোহামেডানের বিষয়টা আমি জানি না। ক্যারিয়ারে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন দুই বার, শেখ জামালে।’
ইয়াসিন তার পারিশ্রমিক প্রকাশ করেননি। তবে জানা গেছে ৬০ লাখের কাছাকাছি। ইয়াসিন বলছিলেন, শুধু দেশি ভালো খেলোয়াড় হলেই হবে না। এএফসি কাপে ভালো করতে হলে ভালো বিদেশি ফুটবলার দরকার।
লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসাবে বসুন্ধরা এএফসি কাপে খেলবে। লক্ষ্য হচ্ছে ভালো কিছু করা। গতবারের দল হতে মাত্র ১২ জন ফুটবলারকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্লাবের চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান। ইয়াসিনের সঙ্গে কালই নিশ্চিত করেছেন আগের মৌসুমের গোলকিপার জিকো, সুফিলকে। আরো থাকছেন সুশান্ত ত্রিপুরা, ফয়সাল, ইমন বাবু, মাসুক মিয়া জনি, আলমগীর কবির রানা, মতিন মিয়া, তৌহিদুল আলম সবুজ, গোলকিপার মোস্তাক। মাসুক মিয়া জনি আরামবাগে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্যাসিনো ঘটনায় থাকলেন বসুন্ধরায়। অনুষ্ঠানে ছিলেন জাতীয় দলের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে। তিনি গিয়েছিলেন ইনজুরিতে থাকা মাসুক মিয়া জনিকে দেখতে। সেই সুবাদে জেমি ইয়াসিনের চুক্তি অনুষ্ঠানের সাক্ষী হয়ে থাকলেন।
বসুন্ধরা অস্থায়ী ক্যাম্প করলেও তারা ১৩০ বিঘা জমির ওপর ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করছে। যেখানে আধুনিক খেলাধুলার সবরকম আকর্ষণীয় উপকরণ থাকবে।
