সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরকারি সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গোত্সব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজার আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে হিন্দু রোহিঙ্গারা। দেখা গেছে, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের তত্ত্বাবধানে কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশালাকার প্রতিমা সাজিয়ে দুর্গোত্সব পালনের সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার রাতে মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু করা পূজা নিয়ে আনন্দমুখর সময় কাটাচ্ছে হিন্দু রোহিঙ্গারা। কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মধুরাম পাল বলেন, নতুন কাপড়, পূজা-অর্চনার পণ্যসামগ্রী ও বিশাল প্রতিমা বসিয়ে সরকারি জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা পালন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের ট্রাস্টি অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন বলেন, জেলার ২৯৬টি মণ্ডপের মতোই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হিন্দু শরণার্থীদের জন্যও একটি পূজার মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। শরণার্থীরা যেন আনন্দের সাথে পূজা করতে পারেন এজন্য ৫ টন জিআর চাল বরাদ্দ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। জেলার সকল মণ্ডপের জন্য দেওয়া হয়েছে ১৫০ মেট্রিক টন। তিনি আরো জানান, আশ্রিত হিন্দু শরণার্থীদের ১১৩ পরিবারের ৪৭০ ছোটো-বড়ো সদস্যকে পূজায় পরতে কাপড় দেওয়া হয়। দেয়া হয়েছে ভোগ্যপণ্যও।
শরণার্থী ক্যাম্পের সীমান্ত রুদ্র ও শিশু শীল জানান, কল্পনাও করিনি আশ্রিত জীবনে এত ধুমধামের সাথে শারদীয় দুর্গোত্সব করতে পারব। বাংলাদেশ সরকার জীবন ধারণের উপকরণের পাশাপাশি ধর্মীয় উত্সবের ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট রণজিত দাশ বলেন, জেলা-উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় দুর্গোত্সব শুরু হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান জানান, গত বছরের মতো এবারও হিন্দু রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারি খরচে পূজা উদযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্যাম্পের পূজার জন্য ৫ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। দেশীয় মণ্ডপের মতো কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শারদীয় দুর্গোত্সবেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুপালং বনভূমির জমিতেই দুর্গাপূজা উদযাপনের যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে হিন্দু রোহিঙ্গাদের জন্য।
