বাঘায় ১ হাজার মণ ভেজাল গুড় জব্দ
বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
বাঘায় র্যাব অভিযান চালিয়ে ১ হাজার মণ ভেজাল গুড় জব্দ করেছে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান চার জন গুড় প্রস্তুতকারীর কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। জব্দকৃত গুড় আড়ানী বাজারসংলগ্ন বড়াল নদে ধ্বংস করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন রাজশাহী র্যাব-৫-এর (এএসপি) সজল আহাম্মেদ ও জামিল হোসেন।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, বাঘার সবচেয়ে পুরোনো হাটের নাম আড়ানী। এখানে ব্রিটিশ আমল থেকে নানা রকম পণ্যের মধ্যে হলুদ, পাট ও গুড়ের ব্যবসা উল্লেখযোগ্য। তবে কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের দেড় শতাধিক মানুষ বেশি লাভের আশায় নিম্নমানের চিনি অথবা মোনালিসের (সুগার মিলের গাদ) সঙ্গে নানা রকম কেমিক্যাল যেমন চুন, হায়ডস, ফিটকারি, ডালডা, আটা, আলু ও বেলুন পাট নামে একটি গাছের ছাল ব্যবহার করে ভেজাল গুড় তৈরি করছে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আড়ানী বাজার এলাকার দুই জন শিক্ষক জানান, আখের গুড় তৈরির জন্য আড়ানী বাজারে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ট্রাক চিনি আনলোড করা হয়। যারা গুড়ের আড়ত পরিচালনা করেন, তাদের সংখ্যা ৩৫। পাশাপাশি যারা ভেজাল গুড় তৈরি করে, তাদের সংখ্যা দেড় শতাধিক। এই হাটে প্রতিদিন সর্বনিম্ন হলেও ১ হাজার ৫০০ মণ আখের ভেজাল গুড় আমদানি করা হয়। এরপর সেই গুড় ট্রাক কিংবা ট্রেনযোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, জয়পুরহাট, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালান দেওয়া হয়।
রাজশাহী র্যাব-৫-এর (এএসপি) সজল আহাম্মেদ ও জামিল হোসেন জানান, আড়ানী বাজারে অভিযান চালিয়ে ভেজাল গুড়ভর্তি ৪৮টি ভ্যান আটক করা হয়। এরপর খোদ্দ বাউসা এলাকার রাজন আলী ও তার ভাই সুজন আলী এবং তার চাচা সাত্তার আলীর ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় আভিযান চালানো হয়। সেখানে গুড় তৈরির উপকরণ হিসেবে একাধিক সরঞ্জাম ও কেমিক্যাল জব্দ করা হয়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সাত্তার আলী পালিয়ে গেলেও তার দুই ভাতিজাকে আটক করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান আটকৃতদের স্বীকারোক্তি শুনে তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার করে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
আড়ানী পৌর এলাকার সাহাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভেজাল গুড়সহ জাহেদ আলী ও ভ্যানচালক জালালকে আটক করা হয়। তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করলে তাদের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
