চা, চামড়া ও লবণশিল্পে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩৫

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

দেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্য চা, চামড়া ও লবণশিল্প ক্রমশ আমদানি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। প্রয়োজন না থাকলেও নানা কৌশলে কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী এসব পণ্য আমদানি করছে। এতে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দেশীয় পণ্য উত্পাদনে নিরুত্সাহিত হচ্ছেন উত্পাদকরা। চাহিদা পূরণে দেশে এখন চা আমদানি করা হচ্ছে। অতি সম্ভাবনাময় চামড়া ও লবণশিল্পও অতি মুনাফালোভীরা নানা কৌশলে আমদানিনির্ভর করে তুলছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, তদারকিতে নিয়োজিত সরকারি সংস্থাগুলোর সময়োপযোগী পরিকল্পনার ব্যর্থতায় রপ্তানিমুখী পণ্যের আমদানি নির্ভরশীলতা বাড়ছে। পরিকল্পিত উন্নয়নের পাশাপাশি এসব পণ্যের আমদানি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা।

আগে দেশীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে বছরে প্রচুর চা রপ্তানি হতো। চা বোর্ড সূত্র জানায়, দেশে বছরে চায়ের চাহিদা প্রায় ৯০ মিলিয়ন কেজি। আর চা উত্পাদিত হয় ৮২ মিলিয়ন কেজি। গত ২০০৪ সাল থেকে চা রপ্তানি কমতে থাকে। তখন বছরে ১৩/১৪ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হতো। এরপর ধস নামে। দেশে বর্তমানে চা বোর্ডের নিবন্ধিত ১৬৭টি বাগান রয়েছে। বাগানগুলোতে প্রচুর জমি খালি পড়ে আছে অথচ চা বাগান করার জন্য মালিকরা এসব জমি ইজারা নিয়েছেন। ফলে চাহিদা অনুপাতে চা উত্পাদন হচ্ছে না। চায়ের উত্পাদন বাড়ানোর জন্য চা বোর্ড নানা পরিকল্পনাও তৈরি করেছে। কিন্তু এসব পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখছে না।

চা বোর্ডের উপপরিচালক (পরিকল্পনা) মুনির আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য উন্নয়নের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চা বোর্ড ও বাগান মালিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চা বোর্ডের গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে চা রপ্তানি করা যাবে।

অতি সম্ভাবনাময় অপর পণ্যটি হচ্ছে লবণশিল্প। কক্সবাজার জেলা ও বাঁশখালীর উপকূলীয় কয়েক স্থানে লবণ উত্পাদন হয়ে থাকে। এবার সাড়ে ১৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ উত্পাদন হয়েছে। আর বিসিকের হিসাব মতে দেশে বছরে লবণের চাহিদা ১৬ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন। তার পরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নানা কৌশলে অতি মুনাফা লাভের জন্য লবণ আমদানি করছে। তারা আমদানি করা লবণ দেশীয় লবণের চেয়ে বাজারে কম দামে বিক্রি করায় দেশীয় লবণ প্রতিযোগিতায় ঠিকতে পারছে না। ফলে লবণ চাষে প্রান্তিক চাষি আগ্রহ হারাচ্ছে। বিসিক সূত্র জানায়, বন্ড সুবিধার আড়ালে অনেকেই লবণ আমদানি করছে। এছাড়া আমদানিকৃত সোডিয়াম সালফেট খাবারের লবণ হিসাবে বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, উপকূলীয় এলাকায় আরো প্রচুর জমি লবণ উত্পাদনের উপযোগী রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে লবণ চাষের পরিধি বাড়ানো গেলে বছরে প্রচুর লবণ রপ্তানি করা সম্ভব হতো। তবে লবণ আমদানি অব্যাহত থাকলে অচিরেই দেশীয় লবণশিল্পে ধস নামবে। আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে অতি সম্ভাবনাময় এ শিল্প।

এ ব্যাপারে বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের ডিজিএম সৈয়দ আহমেদ বলেন, বিসিকের সুপারিশ ছাড়া লবণ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। বর্তমানে ৬০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। হাতিয়া, খুলনা ও পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় লবণ চাষের উপযোগী জমি রয়েছে। চাষের পরিধি বাড়ানো গেলে বছরে প্রচুর লবণ রপ্তানি করা যাবে।