চবিতে ভর্তি পরীক্ষা এলেই আন্দোলন ও সংঘর্ষ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩৫

 ‘নেপথ্যে বড়ো অঙ্কের টাকা’

চবি সংবাদদাতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন ও সংঘর্ষে জড়িয়ে থাকেন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ভর্তি পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চাপে ফেলে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে বড়ো অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া এর মূল উদ্দেশ বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সিনিয়র শিক্ষকরা। এদিকে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ছাত্র সংগঠনকে প্রতি বছর মোটা অংকের টাকা দিয়ে থাকে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় শুরু হচ্ছে আগামী ২৯ অক্টোবর। আসন্ন পরীক্ষাকে সামনে রেখে সম্প্রতি আবাসিক হলে বৈধ শিক্ষার্থীদের হলে তুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের গাফিলতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। এর আগে গত বছরের ২৭ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ১১ অক্টোবর ছাত্রলীগের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এসময় তিন জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত এবং একজনকে আটক করে পুলিশ। ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন বিজয় ও সিএফসির গ্রুপের নেতাকর্মীরা এ সংঘর্ষ ঘটায়। পরে পুলিশ পাঁচ হলে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। ৮ অক্টোবর পানি সংকট, টয়লেট সংস্কার, ওয়াইফাই সংযোগসহ ১২টি দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের মূল গেট ও অফিস রুমে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগের একাংশ। ২ অক্টোবর দশ দফা দাবিতে এ এফ রহমান হলের স্বাক্ষরলিপি দেয় ছাত্রলীগের একাংশ।

এদিকে ২০১৭ সালে ২৬ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এ পরীক্ষার প্রশাসনকে চাপে ফেলে নিজেদের উদ্দেশ আদায় করতে ৯ সেপ্টেম্বর তাপস সরকারের হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে চবি ছাত্রলীগ। ১১ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় পাঁচ জন আহত হয়। ১২ সেপ্টেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এ ঘটনায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৭ সেপ্টেম্বর খাবারের মান বৃদ্ধি, রিডিং রুমসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আবাসিক এ এফ রহমান হলে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রলীগের একাংশ।

একাধিক সিনিয়র শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতি বছরই আন্দোলন বা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে জড়ান। তাদের উদ্দেশ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চাপে ফেলে মোটা অংকের টাকা আদায় করে নেওয়া। অনেক সময় এই বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে দর কষাকষি করে এবং হুমকি দিয়ে থাকে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনের ভূমিকা এমন হতে পারে না।