শেষ কথা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০৪

 

রাজনীতিতে অতি প্রচলিত একটি বাক্য—‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই’। আর এই সুযোগে নেতারা যখন তখন নিজেদের অবস্থান বদল করতে পারেন। অর্থাত্ অনেক রাজনীতিক আছেন তাঁরা যা বলেন, যা করেন, যা বিশ্বাস করেন তার সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী বা পরিবর্তনশীল। তাঁরা আজ যা বলেন, আগামীকাল তা নাও বলতে পারেন, আজ যা বিশ্বাস করেন, আগামীকাল তা অবিশ্বাসও করতে পারেন, আজ যে দলে বা জোটে আছেন অগামীকাল হয়তো অন্য জোটে বা দলে যোগ দিচ্ছেন এমনকি দল বা জোটের নামেরও পরিবর্তন হতে দেখা যায়। এভাবেই রাজনীতিতে নীতি-আদর্শের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, দল বদল, জোট বদল ইত্যাদি বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশেও অনবরত ঘটছে, আমাদের দেশেও ঘটছে। স্বাভাবিক পরিবর্তন অনেক সময়ই দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনকও হতে পারে। তবে আমাদের দেশের রাজনীতিকদের সাম্প্রতিক নীতি-আদর্শের বদল, দল বা জোট বদলের ঘটনাগুলো অনেকটাই অস্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। এ কারণে দেশের ভবিষ্যত্ রাজনীতি নিয়ে রাজনীতি সচেতন মানুষ যথেষ্ট শঙ্কিত এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মও যথেষ্ট বিভ্রান্ত। তরুণ প্রজন্ম তাঁদেরকে নীতি-আদর্শহীন রাজনীতিক হিসেবেই বিবেচনা করবে।

বহুদলীয় গণতন্ত্রের দেশ হিসাবে বাংলাদেশে বিভিন্ন আদর্শের অনেক দল যেমন থাকবে, তেমনি দলগুলোর মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকাটাও স্বাভাবিক। তবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া স্বাধীন বাংলাদেশের সকল রাজনীতির মূল ভিত্তি হতে হবে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অর্থাত্ গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো দল বা জোটকে বাংলাদেশের কোনো সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক সমর্থন করতে পারে না। যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডিত ব্যক্তিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেই মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল। কিন্তু যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলটির বর্তমান নেতৃত্ব আজো অতীতের ভুল স্বীকার করেনি বা জাতির কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই রাজনীতিতে শেষ কথা নেই বলে সবকিছু মেনে নেওয়া যায় না। অর্থাত্ আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো আপস চলে না। সুতরাং বাংলাদেশের রাজনীতিতেও একটা শেষ কথা অবশ্যই থাকতে হবে। একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক কখনো দেশবিরোধী শক্তিকে সমর্থন করতে পারেন না। অন্যদিকে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল  ১৫ আগস্ট বা ২১ আগস্টের কলঙ্কজনক ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত হতে পারে না।

আমরা আশা করি, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমাদের তরুণ প্রজন্ম নীতি-আদর্শহীন রাজনীতিকদের দ্বারা বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক রাজনীতির পথ চিনে নিতে পারবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সঠিকভাবেই দায়িত্ব পালন করবে। স্বাধীনতার প্রায় সাতচল্লিশ বছর পরও আমরা দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে পারিনি। এখনো দেশি-বিদেশি অপশক্তি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করতে নানাভাবে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে দেশের যুবসমাজকে প্রস্তুত থাকতে হবে। অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশবিরোধী সকল অপশক্তিকে পরাজিত করে দেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আর প্রমাণ করতে হবে আমাদের রাজনীতির শেষ ও চূড়ান্ত কথাই হচ্ছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ।

ফরিদপুর