অর্থনীতির স্বার্থে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৫৬

ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের সেমিনারে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সরকারের চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানাচ্ছে। ক্যাসিনোর কারণে দেশ থেকে বহু টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দেশের অর্থনীতির স্বার্থে চলমান ক্যাসিনোবিরোধী শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত অন্যান্য খাতেও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে হবে। গতকাল শুক্রবার ইস্কাটনে ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকস আয়োজিত দিনব্যাপী এক উদ্যোক্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের উদ্যোক্তা অর্থনীতি বিভাগের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা, অর্থনীতিবিদ এবং বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞরা দেশে উদ্যোক্তা তৈরিতে বর্তমান পরিস্থিতি ও তা উত্তরণে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এতে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ নুসরাত নাহিদ ববি।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষতা ও নৈতিকতার শিক্ষার অভাব রয়েছে। যার ফলে বালিশকাণ্ড, পর্দা কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা ঘটছে। ক্যাসিনোবিরোধী শুদ্ধি অভিযান চলছে। এই অভিযান অব্যাহত রেখে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন বলেন, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানকে মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। মানুষ চায় এ অভিযান অব্যাহত থাকুক। ক্যাসিনোর মাধ্যমে টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। অথচ দেশে বিনিয়োগ খরা চলছে। এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশিদ উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি তুলে ধরেন। উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এলপিজি’র ব্যবসা করতে হলে ২৮ ধরনের লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়। এতে ২৮ মাস সময় লেগে যায়। কখন ভূমি নিবন্ধন হবে, আর কখন ব্যবসা শুরু করবে? বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।  অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে উদ্যোক্তা তৈরি ও উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এছাড়া ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটাতে ও অর্থকে ব্যাংকমুখী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণীত নীতিমালা (কেওয়াইসি) আরো সহজ করা উচিত মন্তব্য করেন তিনি। মূল প্রবন্ধে নুসরাত নাহিদ ববি দেশে উদ্যোক্তা তৈরিতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও তা সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এ অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের উদ্যোক্তা অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেহানা পারভীন, সারা তাসনীম প্রমুখ।

সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যবসার ধারণা উপস্থাপন করেন। এছাড়া আটটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এ সংক্রান্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।