ভারত-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

একসঙ্গে কাজ করতে হবে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে সর্বকালের সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক বিরাজ করছে। নিজ নিজ জনগণের পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করে এই অঞ্চলকে আরো সমৃদ্ধ করতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজ করা জরুরি। গতকাল শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লিতে আইসিটি মৌর্য হোটেলের কামাল মহল হলে ভারত-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের (আইবিবিএফ) উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দেশের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, আমি আপনাদের সকলকে প্ল্যাটফরমটির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে এবং আমাদের জনগণের পারস্পরিক বৃহত্তর স্বার্থে উভয় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার অনুরোধ করছি। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশ ও এই অঞ্চলকে আরো সমৃদ্ধ এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী ভারতের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেশ কয়েকটি হাইটেক পার্ক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে। মোংলা, ভেড়ামারা ও মিরেরসরাইয়ে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য তিনটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে। এই তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আমাদের রপ্তানিযোগ্য খাতকে আরো প্রশস্ত করতে সহায়তা করতে পারে। তিনি বলেন, আমরা সারাদেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি।

তিনি বলেন, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমে ভারত, উত্তরে চীন এবং পূর্বদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, এর ফলে বাংলাদেশ ৪০০ কোটি মানুষের বাজারের মাঝামাঝি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি যে, বিশ্বের বেশিরভাগ বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দেশগুলো তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতেই তাদের প্রাথমিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। একইভাবে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতারা আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরো এগিয়ে নিতে খুব বড়ো ভূমিকা পালন করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে দেশে সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতি বলবত্ থাকার বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে উদার বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিগত বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাণিজ্যের ভারসাম্য যদিও এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষেই রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে ভারত এবং বাংলাদেশ এই দেশটির অষ্টমতম বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ভারতে আমাদের রপ্তানিও গত বছরে প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ভারতের শিল্প ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ভারতের কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) সভাপতি বিক্রম শ্রীকান্ত কিরলসকার, ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি সন্দীপ সোমনি, অ্যাসোসিয়েটেড চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব ইন্ডিয়ার (এএসএসওসিএইচএএম) সভাপতি বালকৃষ্ণ গোয়েঙ্কা। অনুষ্ঠানে ‘প্রতিশ্রুতিশীল বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি ভিডিও উপস্থাপনা পরিবেশিত হয়।

ভারতের শিল্প ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল দুই দেশের মানুষের উন্নতির জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।