চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে চলছে র্যাব-পুলিশের শুদ্ধি অভিযান। চলমান এই অভিযানে গ্রেফতার এড়াতে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখন আত্মগোপনে রয়েছে। কিছুদিন আগেও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যারা আধিপত্য বিস্তার করছিল; এখন তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব সন্ত্রাসী অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুব একটা ঘাঁটায় না। প্রাণের ভয়ে ভুক্তভোগীরা এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে সাহস করে না। এ কারণে দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠছিল এরা।

কোন এলাকা কার নিয়ন্ত্রণে :নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী আলী আকবর ওরফে ছেঁড়া আকবর। ১৯৯০ সালের দিকে বোমা বানাতে গিয়ে তার পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। এরপর থেকে আলী আকবরের নাম হয়ে ওঠে ছেঁড়া আকবর। এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে নগরীর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র আবদুল কাদের হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় বেকসুর খালাস পায় সে। আদালতে তার বিরুদ্ধে সাক্ষীরা মুখ না খোলায় একের পর এক মামলায় খালাস পেয়ে যায় এই শীর্ষ সন্ত্রাসী। ১৯৯৯ সালে কলেজের ছাত্র আবদুল কাদের হত্যা মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে তার নাম প্রত্যাহার করে আদালত। ১৯৯৯ সালে একবার গ্রেফতার হয় ছেঁড়া আকবর। ১০ বছর কারাভোগের পর ২০০৯ সালের শুরুতে খুলশী থানায় প্রতিদিন হাজিরা দেওয়ার শর্তে জামিনে মুক্তি পায় এই শীর্ষ সন্ত্রাসী। কিন্তু হাজিরা না দিয়ে ফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় সে। চলমান শুদ্ধি অভিযানে গ্রেফতার এড়াতে এখন গা ঢাকা দিয়েছে ছেঁড়া আকবর। খুলশী ও আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে মশিউর রহমান দিদার। তার বিরুদ্ধে নগরীর ঢেবারপাড়ার শিল্পপতি জাকির হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা ছিল। রয়েছে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ।

এছাড়া খুলশী এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি, অবৈধ রেস্টহাউজ ও গেস্টহাউজ পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর নগরীর নন্দনকানন, সিআরবি এলাকা ও রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় নাম রয়েছে তার। সিআরবি জোড়া খুনসহ বিভিন্ন সময়ে ১৫টি মামলা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে সিআরবি জোড়া খুন ছাড়া অন্য মামলাগুলোতে খালাস পেয়েছে বাবর।

নগরীর সিআরবি ও আগ্রাবাদ এলাকায় আধিপত্য রয়েছে ছাত্রলীগের আরেক সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল আলম লিমনের। খুন, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নগরীর লালখান বাজার এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দিদারুল আলম মাসুম। সম্প্রতি ছাত্রলীগের নেতা সুদীপ্ত হত্যা মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে জামিনে মুক্তি পেয়ে এখন সে আত্মগোপনে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে।

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, চন্দ্রনগর, শেরশাহ, পলিটেকনিক্যাল এলাকায় সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে মহিউদ্দিন। এছাড়া সামশু ওরফে ইয়াবা সামশু নগরীর রুবি গেট, হিলভিউ, বার্মা কলোনি ও তার আশপাশের এলাকায় মাদকের পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। ১২ মামলার আসামি সামশু ঐ এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। নগরীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরেক পরিচিত নাম ঢাকাইয়া আকবর। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা ও ৩টি জিডি হয় পাঁচলাইশ থানায়। অস্ত্র মামলায় ২০০৪ সালে ১৭ বছর সাজা হয় তার। পরে ঐ মামলায় সে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পায়। তার বিরুদ্ধে নগরের নাসিরাবাদ শিল্পাঞ্চল ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এলাকায় চাঁদাবাজি এবং পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করার অভিযোগ আছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মুসার বিরুদ্ধে আছে পাঁচটি মামলা। নগরীর রহমাননগরের আলমগীর পাঁচলাইশ থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে পাঁচটি মামলা।

নগরীর বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও ও মোহরা এলাকায় বিভিন্ন সময়ে ইয়াবা, অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে চান্দগাঁওয়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী এসরার। স্বঘোষিত যুবলীগ নেতা এসরারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। চলমান শুদ্ধি অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিনু। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে। তার একটি কিশোর গ্যাংও রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকার কয়েকটি কলেজ ও স্কুলের উঠতি সন্ত্রাসী ও কিশোর  শিক্ষার্থীদের নিয়ে সক্রিয় রয়েছে টিনু বাহিনী। নগরীর বাকলিয়া, বহদ্দারহাট, পাঁচলাইশ ও চকবাজার এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত এই বাহিনীর সদস্যরা।