পদ্মায় তীব্র স্রোত ও ভাঙনে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে অচলাবস্থা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১৫

পদ্মায় তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনের ফলে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দেশের ব্যস্ততম নৌপথ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায়। এরই মধ্যে ভাঙনের কবলে পরে বন্ধ হয়ে গেছে দু’টি ফেরিঘাট। বাকি চারটি ঘাটে ফেরি ভিড়তে বেগ পেতে হলেও কোনোরকমে সেখান দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট পরিদর্শন শেষে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে লঞ্চ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত দেন। লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় লঞ্চ পারাপার যাত্রী?দের ফে?রিতে নদী পারাপার হতে? বলা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দৌলতদিয়া ১ নম্বর ফেরিঘাট ও ২ নম্বর ফেরিঘাটে মধ্যে থাকা সিদ্দিক ব্যাপারীরপাড়া গ্রামের বিশাল অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে অন্তত ২০০ পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোসহ বন্ধ হয়ে গেছে ঐ দুইটি ফেরিঘাট।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের তথ্য মতে, নদীর দৌলতদিয়া প্রান্তে থাকা ছয়টি ঘাটের মধ্যে ভাঙনের কবলে ১ নম্বর ও ২ নম্বর ফেরি ঘাট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ৪ নম্বর ফেরি ঘাটটি সচল থাকলেও তীব্র স্রোতের কারণে সেখানে ফেরি আসতে পারছে না। বাকি ৩ নম্বর, ৫ নম্বর ও ৬ নম্বর ঘাট সচল রয়েছে। তবে এসব ঘাটেও ফেরি ভিড়তে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে এবং অনেক সময় লাগছে। সূত্র আরো জানায়, এই নৌরুটে চলাচলের জন্য ১৬টি ফেরি থাকলেও ১৩টি ফেরি সচল রয়েছে। সচল থাকা ফেরিগুলোর মধ্যে রো রো (বড়ো) পাঁচটি ফেরি সার্বক্ষণিক চলাচল করতে পারছে। বাকি আটটি ফেরি স্রোতের কারণে ঠিকমতো চলতে পারছে না। এই ফেরিগুলো মাঝে মধ্যে দীর্ঘ চেষ্টা করে দু’একটি ট্রিপ দিচ্ছে।

শুক্রবার সরেজমিনে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের ২ নম্বর ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একের পর এক বড়ো বড়ো মাটির চাপ ভেঙে পড়ছে নদীতে। উত্সুক শত শত মানুষ ভাঙন দেখছে। এ সময় অনেকেই জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির সাথে এই এলাকার ভাঙন এতই তীব্র হয়েছে যা আতঙ্ক ছড়ানোর মতো। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে বালুর বস্তা ফেলছে তা তেমন কোনো কাজেই আসছে না। আগের স্থাপন করা বালু ভর্তি জিও ব্যাগ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের সবগুলো ঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়,  জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকায় শত শত যানবাহন অন্য পাড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়  আছে। বাস চালকেরা জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে এখন যাত্রী নিয়ে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হচ্ছে। তারপর পাওয়া যাচ্ছে ফেরি। আগের দিন রাতে অনেক নৈশকোচ দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পর দিন ফেরিতে উঠতে পারছে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় কর্মরত (টিএসআই) মো. রেজাউল করিম জানান, ঘাটের এই অবস্থা দেখে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে বিকল্প সড়ক হিসেবে সিরাজগঞ্জ সেতু ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারপরও ট্রাক চালকেরা ঐ রুট ব্যবহার করতে রাজি না। তারা তেল খরচ বাঁচানোর জন্য এখানেই বসে থাকছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম জানান, হঠাত্ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজবাড়ীর কয়েকটি পয়েন্টে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের। আমরা জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলার কাজ করে যাচ্ছি। ঘাট সচল রাখতে আমরা সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।