আত্মীয়স্বজন

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:১০

 সত্যজিত্ বিশ্বাস

 

আঙুর ফল টক না মিষ্টি এ নিয়ে পৃথিবী তোলপাড়। আরে বাবা, আঙুরে ভাইটামিন আছে কি না, সেটাই আসল কথা। সকালে খবরের কাগজ খুলে হেড লাইনগুলো পড়লে যে ধারণাটা হয়, তাহলো, এদেশে শুধু মারামারি আর কাটাকাটি। আসলেই কি তাই? যে খবর কোনোদিনও খবরের কাগজে উঠে আসে না, সেটা হলো আমাদের আন্তরিকতা।

আমাদের আছে জাতীয় ঐক্য। সাড়ে ষোল কোটি মানুষই আপনার অতি নিকট আত্মীয়।

কি বিশ্বাস হচ্ছে না? 

 

v একবার ভেবে বলুন তো, যেকোনো বাসে চড়ে তার ড্রাইভার, হেলপার, কন্ডাক্টরকে কী বলে ডাক দেন? এটাই একমাত্র দেশ, যেখানে ড্রাইভার, হেলপার, কন্ডাক্টররা আপনার মামা না হয় আপনি তাদের।

 

v পাড়ার একটা হোটেলে বসুন। সঙ্গে সঙ্গে বয়, বেয়ারারা ছুটে এসে কি ‘মামা, কী খাইবেন’ বলে সম্বোধন করে না?

 

v দেশের প্রতিটা রিকশাওয়ালাকে তুই/তুমি করে বলার নাগরিক অধিকার শুধু এ দেশেই আছে। অপরিচিত বলে ‘আপনি’ করে বলার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা কখনোই রিকশাওয়ালাকে পর মনে করি না। সব রিকশাওয়ালাই অতি আপন।    

 

v সম্পূর্ণ অপরিচিত লোকের সঙ্গে বাসে লঞ্চে মাঠে ঘাটে যখন খুশি যেখানে খুশি রাজনীতি নিয়ে অন্তরঙ্গ আলাপ (তাদের ১৪ গুষ্টি উদ্ধার পর্যন্ত), এমনকি জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেওয়ার ক্ষমতা শুধু এ দেশের গ্রিন কার্ডধারীদেরই আছে।  

 

v তার পরেও যদি এদেশের মানুষকে পর মনে হয়, তাহলে একটা পরীক্ষা নিজেকে দিয়েই করে ফেলুন। রাজপথে হঠাত্ মাগো, বাবাগো বলে ঠাস করে চিত্ হয়ে শুয়ে পড়ুন। পাঁচ মিনিটের মাথায় দেখবেন, আপনাকে ঘিরে কমসে কম শ খানেক মানুষ।

 

এমন আন্তরিকতা আর কোথায় পাবেন শুনি?

শারদীয় দুর্গোত্সবের ঠিক আগে আগে ফ্রিতে এত আত্মীয়স্বজন খুঁজে দেওয়ার জন্য কেউ যদি খুশি হয়ে কিছু ইয়ে, মানে ইয়ে আর কি... ... দিতেই চান, মানা করি কী করে? হেঃ হেঃ হেঃ শত হোক দেশি ভাই তো। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরটা কি দেব?