ইত্তেফাক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এক ও অভিন্ন

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৫

 ‘অতীত থেকে শিখি, ভবিষ্যতের ভিত গড়ি’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন সংবাদপত্র দৈনিক ইত্তেফাকের উদ্যোগে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ‘সাংবাদিকতার উত্কর্ষে’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়টির ধানমন্ডি ক্যামপাসে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে উপলক্ষ করে ঢাকার চারটি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক-এর সম্পাদকীয় বিভাগের ইনচার্জ সহকারী সম্পাদক মিনার মনসুরের সঞ্চালনায় কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক আন্দালিব রাশদী, দৈনিক কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ও এমিরিটাস অধ্যাপক ড. এম ফিরোজ আহমেদ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী আব্দুল মান্নান।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস জানার গুরুত্ব, স্বাধিকার আন্দোলনে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ও ইত্তেফাকের ভূমিকা, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে সাংবাদিকতার প্রচলিত ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আসছে তাতে সাংবাদিকতার নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে তারা বলেন, ইত্তেফাক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এক ও অভিন্ন।

আন্দালিব রাশদী বলেন, ৬৬ বছর ধরে একটি পত্রিকা টিকে থাকা সহজ বিষয় নয়। ইত্তেফাক এখনো জনপ্রিয়তার সঙ্গে টিকে আছে। পত্রিকাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভূমিকা রেখেছে। ইত্তেফাকের ইতিহাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এসময় তিনি বলেন, যারা সাংবাদিকতা করতে চায় তাদের ইতিহাস জানতে হবে। সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের জন্য মানিক মিয়ার ইতিহাস জানা জরুরি। ইতিহাস জানার কোনো বিকল্প নেই।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকরা নানা বিশেষণে ভূষিত করেন প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু অন্যদেশে সাংবাদিকরা মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার সম্বোধনেই প্রশ্ন করেন। বিভিন্নক্ষেত্রে তোষামদের অভ্যাস দূর করতে হবে।

মোস্তফা কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং মানিক মিয়া একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছয়দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন, কিন্তু তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া।

অধ্যাপক কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, ইত্তেফাকের অতীত ইতিহাস ছিল গৌরবোজ্জ্বল। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও ইত্তেফাককে সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে।

ড. এম ফিরোজ আহমেদ তার বক্তব্যে স্বাধীনতা সংগ্রামে ইত্তেফাকের ভূমিকা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মুদ্রিত সংবাদপত্রের দিন শেষ বলে শোনা গেলেও ছাপা কাগজের আবেদন খুব একটা কমেনি। মানুষ এখনও কাগজ হাতে নিয়ে পড়তে ভালোবাসেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন সাংবাদিকতার শতাধিক শিক্ষার্থী। মূল আলোচনার পর অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল সামিট গ্রুপ, অ্যাকশন এইড, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স লি., ই-সিকিউরিটিজ লি., বিকাশ ও ইস্পাহানি। বেভারেজ পার্টনার ছিল অরেঞ্জি।