রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি
শীত আসতে মাস তিন দেরি থাকলেও শীতকালীন সবজি শিম উত্পাদনের তোড়জোড় পাবনার বিভিন্ন গ্রামে আগেভাগেই শুরু হয়েছে। জেলার নয় উপজেলার মধ্যে আটঘরিয়া, ঈশ্বরদী, সদর উপজেলায় শিম উত্পাদন হয় বেশি। পুরো জেলার ৩ হাজার ৫২২ হেক্টর জমি আবাদের মধ্যে এই তিন উপজেলায় আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৩ হাজার ৭ হেক্টর।
পারখিদিরপুর গ্রামের ইউনুস আলির স্ত্রী শেফালি খাতুন জানান, বেশি লাভের কারণে তিনি ছেলেমেয়েসহ শিম খেতে কাজ করে আনন্দ পান। সোনাতলা, সরাবাড়িয়া গ্রামের কৃষকরা জানান, শিম আবাদের ক্ষেত্রে সরকার সহায়তা করলে বিশেষ করে সার ও কীটনাশকের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া হলে কৃষকরা আরো বেশি লাভবান হতে পারত।
সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের শাহদিয়ার গ্রামের কয়জন চাষি জানান, শিম চাষে বেশি লাভ। যে কারণে তারা একে একে শিমের জমি বাড়িয়েছেন। ঈশ্বরদী উপজেলার আথাইলশিমুল, খয়েরবাড়িয়া এলাকার মোস্তফা, সুরুজ, নান্টুসহ অনেকেই জানান, শিম চাষ করে তারা প্রত্যাশার চেয়েও এবার বেশি লাভের আশা করেন।
এদিকে শিম চাষকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীর মুলাডুলিতে গড়ে উঠেছে বিশাল বাজার ও সমিতি। এখান থেকেই প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ ট্রাক ভর্তি শিম ট্রাকে লোড হয়ে ঢাকার কারওয়ান বাজার, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহীসহ দেশের প্রায় অধিকাংশ এলাকায় যাচ্ছে। প্রতি কেজি শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলাডুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম মালিথা জানান, তার ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ ও আশপাশের অনেকেই শিম আবাদ, বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আজহার আলী শনিবার জানান, শুধু শিম চাষের কারণে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাওয়ায় তারা প্রচণ্ড আগ্রহ এবং শ্রদ্ধাভরেই আবাদ করছেন শীতকালীন অন্যতম সবজি শিম। প্রকৃতি পক্ষে থাকলে তারা এবার শিমের ভালো ফলন পাবেন।
