সবাইকে ছাড়িয়ে তামিম-মুশফিক

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫২

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্যের রূপকার তারা। পরিসংখ্যানের পাতাই যার প্রমাণ বহন করে। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমদের ব্যাটই প্রায় ১৭ হাজার রানের ধারক। এ ফরম্যাটে দেশের হয়ে শীর্ষ তিন রান সংগ্রাহকও তারা। দিনে দিনে সমৃদ্ধ হচ্ছে তাদের রানের ঝুলি।

বরাবরের মতোই ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হন এ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ত্রয়ী। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও যার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনজনই হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। বাংলাদেশের সাত উইকেটে ২৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরে তাদের অবদানই বেশি।

শুধু হাফ সেঞ্চুরি নয়, গতকাল তামিম-মুশফিক গড়েছেন নতুন রেকর্ড। দ্বিতীয় উইকেটে ১১১ রানের জুটি গড়েছেন তারা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশিবার শতরানের জুটির মালিক হয়েছেন বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে এক সাথে খেলে আসা তামিম ও মুশফিক। গতকালসহ সর্বোচ্চ ৫ বার শতরানের জুটি গড়েছেন তারা। ৪ বার শতরানের জুটি গড়ে তাদের পরই আছেন সাকিব-মুশফিক। ৩ বার করে শতরানের জুটি আছে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ, তামিম-সাকিব, তামিম-সৌম্যর যুগলবন্দিতে।

ওয়ানডে ইতিহাসে মোট ৮৪ বার শতরানের জুটি গড়তে সমর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। টপঅর্ডারে ধস নামলেই সাধারণত ব্যাটিং লাইনে ওপেনার তামিমের সঙ্গে দেখা হয় মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মুশফিকের। ৪২ ইনিংসে ৫টি শতরানের জুটি গড়েন তারা। সাকিব-মুশফিক অবশ্য ৪টি শতরানের জুটি গড়তে খেলেছেন ৭৪ ইনিংস। ৩টি করে শতরানের জুটি গড়তে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ ৩৩ ইনিংস, তামিম-সাকিব ৩৪ ইনিংস, তামিম- সৌম্য ২৬ ইনিংস খেলেছেন।

নিজেদের যুগলবন্দির প্রথম ২৫ ইনিংসে শতরান স্পর্শ করতে পারেননি তামিম-মুশফিক। ২০১৫ সালে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পরপর দুই ম্যাচে তারা গড়েন ১৭৮ ও ১১৮ রানের জুটি। এরপর ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬৬ ও ভারতের বিপক্ষে ১২৩ রানের দুটি শতরানের জুটি গড়েন তামিম-মুশফিক। এবার গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১১ রানের জুটি গড়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন তারা।

গতকাল টসে হেরে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন দাস। চতুর্থ ওভারে ইমরুল কায়েস উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। শুরুতেই চাপে পড়া বাংলাদেশ দলের হাল ধরেন তামিম ও মুশফিক। চাপ কাটানোর সঙ্গে সঙ্গে ইনিংস বিনির্মাণের কাজটাও এগিয়ে নেন তারা। তাদের ব্যাটে ১১তম ওভারেই ৫০ পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। ১৯তম ওভারে আসে ১০০ রান। মুশফিক ৬২ বলে ৩২তম হাফ সেঞ্চুরি, তামিম ৬১ বলে ৪৩তম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

ইনিংসের ২৪তম ওভারে বিচ্ছিন্ন হয় এ জুটি। দেবেন্দ্র বিশুর বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন তামিম। ৬৩ বলে ৫০ রান করেন তিনি। দুই ওভার পর মুশফিকও বিদায় নেন। ৮০ বলে ৬২ রান করে ওশানে থমাসের বলে উইকেটকিপারের কাছে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি।

তিন ফরম্যাট মিলে মাশরাফি-তামিম-সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের শততম ম্যাচ ছিল গতকাল। নিজেদের অসাধারণ মাইলফলকের ম্যাচে ব্যাটিংয়ে তামিম, সাকিব, মুশফিক করেছেন হাফ সেঞ্চুরি। মাহমুদউল্লাহও ৩০ রানের ইনিংস খেলেছেন। শেষ বেলায় মাশরাফিও অপরাজিত ৬ রান করেছেন। তবে শতরানের জুটি গড়ে তামিম-মুশফিক নিজেদের যুগলবন্দিকে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়। 

ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি শতরানের জুটি

ব্যাটসম্যান                  সংখ্যা

তামিম-মুশফিক                            ৫ বার

সাকিব-মুশফিক                           ৪ বার

তামিম-সাকিব                             ৩ বার

সাকিব-মাহমুদউল্লাহ      ৩ বার

তামিম-সৌম্য                               ৩ বার