এনবিআরের অভিযান

ইসলামপুর থেকে বন্ডের ৭৫ টন চোরাই কাপড় উদ্ধার

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৬

বন্ড সুবিধায় আনা কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্ডের চোরাই কাপড়ের সন্ধানে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়েছে এনবিআরের আওতাধীন বন্ড কমিশনারেট অফিসের কর্মকর্তারা। সর্বশেষ গতকাল শনিবার এ ধরনের চোরাই কাপড়ের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীর পুরোনো ঢাকার ইসলামপুরে অভিযান চালিয়ে ৭৫ টন চোরাই কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নতমানের শার্ট ও স্যুটের কাপড় রয়েছে। এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৫ টন উন্নতমানের চোরাই কাপড় আটক করা হয়, যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। 

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট অফিস সূত্র জানিয়েছে, ইসলামপুর এলাকার বাদশা হাজী আহমেদ কমপ্লেক্স এবং আইটিসি টাওয়ারের বেশকিছু গোডাউনে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, আটককৃত এসব কাপড় বন্ড সুবিধায় আমদানি করা। রপ্তানির শর্তে শুল্ক সুবিধায় আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রপ্তানির পরিবর্তে অবৈধভাবে এসব কাপড় ইসলামপুরের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

কাস্টমস বন্ড কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবীর বলেন, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে আটককৃত পণ্যের ক্ষেত্রে চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ইতিমধ্যে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু গোডাউনের মালিক বা ক্রেতা নয়, যেসব উত্স হতে চোরাইপথে এসব কাপড় ইসলামপুরে এসেছে, ঐ চক্রকে বিজিএমইএর সহযোগিতায় আইনের আওতায়  আনা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, ইসলামপুর এলাকার বিভিন্ন পাইকারি মার্কেটে বন্ডেড চোরাই ফেব্রিকসের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ইস্যুতে সম্প্রতি ইত্তেফাকে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর পর ইস্যুটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যেও আলোচনা জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি অপব্যবহারকারী গার্মেন্টস মালিকদের একটি তালিকাও  পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএকে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তৈরি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করার সুযোগ রয়েছে। তবে এসব কাঁচামাল রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বন্ড কমিশনারেট অনুমোদিত গুদামে রাখতে হয় এবং এসব কাঁচামাল দিয়ে তৈরি সব পণ্য রপ্তানি করতে হয়। এটি বন্ড সুবিধা হিসেবে পরিচিত। রপ্তানি না হলে বা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হলে এক্ষেত্রে প্রযোজ্যহারে শুল্ক কর পরিশোধ করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রপ্তানি না করে খোলা বাজারে এসব পণ্য বিক্রি করে দিচ্ছে। এর  ফলে যারা শুল্ক কর পরিশোধ করে পণ্য আমদানি করে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না। অন্যদিকে এর ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতির মুখে পড়ে আর সরকারও রাজস্ব হারায়।