গাইবান্ধার তৃষা হত্যা মামলার ১৪ বছর সাজা ভোগ করা আসামি মেহেদি হাসান মডার্নকে আবারও স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আটক করে রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে এই মডার্নকে আটক করা হয়। পরে শনিবার বিকালে তাকে গাইবান্ধায় আনা হয়।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার জানান, বুধবার গাইবান্ধা শহরের এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। পথে শহরের ভিএইড রোডের কল্পলতা স্কুল এলাকা থেকে মর্ডাণ ও তার সহযোগী সাব্বির হোসেন বাপ্পী ওই ছাত্রীকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে শহরের অদূরে বাদিয়াখালীর একটি কম্পিউটারের দোকানে নিয়ে যায়। পরে ওই দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মর্ডানকে শুক্রবার রাতে কেরানীগঞ্জ থেকে আটক করে শনিবার গাইবান্ধায় আনা হয়।
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় টিকে থাকতেই দেশের স্বার্থ বিক্রি করেছে সরকার: রিজভী
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ময়নুল হক জানান, বিগত ২০০২ সালে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী গাইবান্ধার মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তৃষা হত্যার দায়ে আরও দুই সহযোগীসহ (মোহাম্মদ শাহিন ও আরিফুল ইসলাম আশা) ১৪ বছর জেল খাটে এই মডার্ণ। আবারও নতুন অপরাধে তাকে আটক করা হয়েছে। অপর আসামি সাব্বিরকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এদিকে নির্যাতিত ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তার জামা কাপড়ের ডিএন এ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত ২০০২ সালের ১৭ জুলাই গাইবান্ধা মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা তৃষা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথে মডার্ণ, মোহাম্মদ শাহিন ও আরিফুল ইসলাম আশা তাকে ধাওয়া করে। তাদরে ধাওয়া খেয়ে তৃষা পুকুরে লাফ দেয়। এক পর্যায়ে পানিতে ডুবে সে মারা যায়। এ ঘটনায় তৎকালীন গাইবান্ধা জেলা জজ ওই তিন বখাটের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পরে কারাভোগকালে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপীল বিভাগ ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
