মধুপুরে হচ্ছে কলম ভাস্কর্য ও জাদুঘর

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৪৪

Ðগোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

‘কেন্দ্র থেকে নয়, প্রান্ত থেকেই শুরু হোক সৃজনশীল কাজ’ এ শ্লোগানকে ধারণ করে টাঙ্গাইলের মধুপুরে নির্মিত হচ্ছে কলম ভাস্কর্য ও জাদুঘর। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণরা এর উদ্যোক্তা। মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামের ‘চুনিয়া আনন্দ বাজার আলোর ভুবন আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়’ মাঠে নির্মিত হবে এ ব্যতিক্রম ভাস্কর্য।

দেশের ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫০টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৫০টি কলেজ এবং দেশ-বিদেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর ৫০ লাখ ব্যবহূত কলম দিয়ে নির্মাণ করা হবে এ ভাস্কর্য। ৫০ ফুট উচ্চতার এ ভাস্কর্যে স্থান পাবে বারাক ওবামাসহ বিশ্বের ৫০ জন এবং বাংলাদেশের ৫০ জনসহ ১০০ জন বরেণ্য ব্যক্তির ব্যবহূত কলম। কলমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই দেশের ১৬ জেলার পরিত্যক্ত কলম সংগ্রহের কাজ করে যাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে উদ্বোধন করা হবে ভাস্কর্যটি। ইতিমধ্যে ৩০ লাখ পরিত্যক্ত কলম সংগ্রহ করা হয়েছে। সম্প্রতি এ জাদুঘর ও ভাস্কর্যের কাজের  উদ্বোধন করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

উদ্যোক্তাদের প্রধান জাহাঙ্গীর কবীর জানান, ২০১২ সালে আউসনারা উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার হলে এক পরীক্ষার্থীর ছুড়ে দেওয়া পরিত্যক্ত কলম চোখে লেগে আহত হন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আলমগীর হোসেন। পরে সে চিরতরে অন্ধ হয়ে যায়। এ দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কলম ভাস্কর্যের পরিকল্পনা করেন তার সহপাঠীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র জাবেদ জাফরি সংগ্রহ করেছেন নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনুস এবং বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের ব্যবহূত কলম।

অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র জাহাঙ্গীর কবিরের বন্ধু, আমেরিকার মিসিগান শহরের বাসিন্দা জন রবার্ট ডি এর সহযোগিতায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ব্যবহূত কলম সংগ্রহ করেছেন।

ভাস্কর্যের পাশেই নির্মিত হবে কলম জাদুঘর। জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকবে বিশ্ববিখ্যাত লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, নোবেলজয়ী, অস্কারজয়ীর মতো সেরাদের ব্যবহূত কলম ও  হাতের লেখা। কলম ভাস্কর্য ও কলম জাদুঘর নির্মাণের প্রচারণায় তৈরি হয়েছে একটি সংগীত। লিখেছেন গীতিকার মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান এবং সুর করেছেন সুরকার মাইনুল ইসলাম খান। সংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পি রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা ও মাকসুদ। কণ্ঠ মিলিয়েছেন ৪৮ জন তরুণ-তরুণী। প্রধান উদ্যোক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ছাত্র জাহাঙ্গীর কবির জানান, তারুণ্যের এ প্রয়াসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে দুনিয়ায় রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।