টাকা হাতানোর অভিযোগ অস্বীকার করে মশিউর রহমান মহারাজের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৪৪

Ðপিরোজপুর অফিস

পিরোজপুর জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান মহারাজের বিরুদ্ধে শনিবার উত্থাপিত সমিতির ২৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করে মহারাজ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র। সমিতির বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও প্রশাসনিকভাবে হয়রানি করার জন্য সমিতির কতিপয় কর্মকর্তা ও সদস্য এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এ মিথ্যা তথ্য সংবলিত অপপ্রচারমূলক একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে।’ গতকাল রবিবার পিরোজপুর প্রেসক্লাবে এক পালটা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি এ কে এম এ আউয়াল, সহ-সভাপতি ও পিরোজপুরের পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক, যুগ্ম-সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খালেকের ছোটো ভাই আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মশিউর রহমান মহারাজ বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সমিতি পরিচালনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে সংগঠনের নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং আর্থিক দায়িত্ব কোষাধ্যক্ষের। সাধারণ সম্পাদক বাবুল হালদারই সমিতিভুক্ত গাড়ির মালিক ও সদস্যদের স্বার্থ দেখভাল করেন। গাড়ির মালিকরা কখনোই রোটেশন, চাঁদা আদায়সহ অন্য কোনো বিষয়েই সভাপতির কাছে অভিযোগ করেননি। তবে সম্প্রতি বাবুল হালদারের বিরুদ্ধে সভাপতির স্বাক্ষর জাল ও স্ক্যান করে গাড়ির রোটেশন, রুট, মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ইত্যাদি কাজ করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উলটা একটা সংবাদ সম্মেলন করে সভাপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ আনেন।’

সমিতির সদস্য সংখ্যা ১২৪-১২৫ জন দাবি করে মশিউর রহমান বলেন, ‘কতিপয় গাড়ির মালিক কিছু বহিরাগত লোক দিয়ে ১৩৬ সদস্য নিয়ে তার বিরুদ্ধে যে অনাস্থা আনয়নের কথা বলা হয়েছে তা মিথ্যা। কোনো অনাস্থা প্রস্তাব থাকলে তা সভাপতির কাছে লিখিতভাবে উত্থাপন করা নিয়ম। তা না করে কথিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অবৈধ। ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি সমিতির সভাপতি এবং আমার নেতৃত্বের কমিটি বৈধ।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন নান্না, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম গাজী, কোষাধ্যক্ষ রিপন দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।

বাবুল হালদার বলেন, ‘আমি এই সমিতির যে সাধারণ সম্পাদক তা আমার জানা নেই। বিগত পাঁচ বছর আমি সমিতির অফিসে বা বাস টার্মিনালে জীবনভয়ে আসা-যাওয়া করি না। সমিতির যে সব কাগজপত্রে আমার সই-স্বাক্ষর রয়েছে, তা জোর করে ও ভয় দেখিয়ে নেওয়া হয়েছে।’