নির্বাচকদের নমনীয়তায় পাশ রুবেল-নাসিররা

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫৪

স্পোর্টস রিপোর্টার

জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) খেলতে হলে বিপ টেস্টে ১১ স্কোর তুলতে হবে। নির্বাচকরা সাফ কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। বয়সের ঘর ৩০ পেরিয়ে যাওয়া অনেক ক্রিকেটারের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল এ খবরে।

গত ১ অক্টোবর প্রথমদিনের বিপ টেস্ট উতরে যেতে পারেননি সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনেকে। গতকাল দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৩৫ জন ক্রিকেটার বিপ টেস্ট দিয়েছেন মিরপুর স্টেডিয়ামের ইনডোরে। এছাড়া খুলনায়ও অনেকে বিপ টেস্ট দিয়েছেন।

গতকাল মোহাম্মদ আশরাফুল, আব্দুর রাজ্জাক, ইলিয়াস সানি, মোহাম্মদ শরীফরা বিপ টেস্ট দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আল-আমিন হোসেন, ইমরুল কায়েস, রুবেল হোসেন, সোহাগ গাজী, নাসির হোসেন, মোহাম্মদ শহীদরাও অংশ নিয়েছেন।

বিপ টেস্ট শেষে সবার মুখেই ছিল তৃপ্তির হাসি। কেউ ১০, কেউবা ১০ এর বেশি স্কোর করেই পরীক্ষা উতরে গিয়েছেন বলেই জানিয়েছেন এসব ক্রিকেটার। জানা গেছে, আশরাফুল, রাজ্জাক, রুবেল ১০ স্কোর করেছেন। নাসির ১০.১, সোহাগ গাজী ৯.৮, শহীদ ৫.৯ স্কোর তুলেছেন। সর্বোচ্চ ১২ স্কোর তুলেছেন পেসার আল-আমিন। বাঁহাতি ওপেনার ইমরুল ১১.৫ স্কোর করেছেন।  খুলনায় তুষার ইমরান ১০.৩ ও জিয়াউর রহমান ১০.৭ স্কোর পেয়েছেন।

তবে এখন সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রতি কিছুটা নমনীয় হয়েছেন নির্বাচকরা। বেঁধে দেওয়া ১১ স্কোর থেকে কিছুটা কম করলেও অনেক ক্রিকেটারকে ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছেন নির্বাচকরা। গতকাল জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন, ‘বয়স, ফর্ম বিবেচনায় আমরা কিছুটা হলেও বিবেচনা করব, এটা আগেও বলেছি। ওরা পাশ করেছে, এটা বলতে পারে না। এখনো ওরা নিচেই আছে। এখন আমরা দেখব কে কত পেয়েছে, তারপর সিদ্ধান্ত নিব।’

অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রাজ্জাক জানিয়েছেন, বয়সের কথা বিবেচনা রেখে কিছুটা বিবেচনা করা উচিত সিনিয়রদের। ৩৭ বছর বয়সি এই বাঁহাতি স্পিনার গতকাল বলেছেন, ‘সবার আগে পারফরম্যান্স। আমার মনে হয় পারফরম্যান্স বিবেচনা করা উচিত সবার আগে। একজন ভালো খেলছে, ভালো আছে তখন তার জন্য ন্যূনতম একটা বিবেচনা করা উচিত। তবে তার মানে এই না যে ফিটনেস টেস্টের স্কোর খুব বাজে হবে। অবশ্যই একটা লেভেলে থাকতে হবে। নয়ত ছাড় পাওয়া যাবে না। আমার বয়সে এসে যদি আমাকে ১২ তুলতে বলে তাহলে এটা আমার জন্য কঠিন এবং অসম্ভব প্রায়।’

তবে প্রথম দিনের তুলনায় অনেক ক্রিকেটারের উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রেনার তুষার কান্তি হাওলাদার। গতকাল বিপ টেস্ট শেষে বিসিবির এই ট্রেনার বলেছেন, ‘প্রায় ৩০-৩৫ জনের মতো দিয়েছে। যারা একটু ভালো, মানে আশরাফুলদের মতো যারা আছে তাদের উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। তবে একদম বেঞ্চমার্ক ছুঁতে পারেনি তারা। তাদের জন্য জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক প্যানেলে যারা আছেন তারা হয়ত চিন্তা করবেন। তাদের খেলার বয়স নিয়ে চিন্তা করে তাদের ব্যাপারে কী করা যায় সেটি ভাববেন।’

উন্নতিটা অবশ্য স্পষ্ট। প্রথমবার আশরাফুল ৯.৬, নাসির ৯.৭, রাজ্জাক ৯.৪, ইলিয়াস সানি ৯.৫ স্কোর তুলতে সমর্থ হয়েছিলেন।

রাজ্জাক আরো বলেছেন, এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। ফিটনেস টেস্টের এই ধারাকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, ফিটনেস টেস্টের আগে দল হিসেবে ট্রেনিং করানো দরকার। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘গত বছর হয়েছে। এবারও হলো। দলগতভাবে যদি ফিটনেস ট্রেনিংগুলো হয় তাহলে খুব ভালো হবে।’