ব্রেক্সিট ও বরিস সংকট নাকি জয়

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫৬

শিফারুল শেখ

 

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বাবা স্ট্যানলি জনসন বলেছেন, তার ছেলে সঠিক পথেই আছে। ব্রেক্সিটকে হ্যান্ডেল করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনার যোগ্য ব্যক্তি সে। ব্রিটেনের মানুষ কিংবা বিশ্লেষকরা কিন্তু সেটা বলছেন না। কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী বরিস দেশকে সাংবিধানিক সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। কারো মতে, বরিস নিজেই নিজেকে কারাবন্দি করছেন। আবার কারো মতে, নিজে বাঁচতে বরিস কাউকে বাসের নিচে ফেলছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জয় হবে কার?

 

g বরিসের নতুন প্রস্তাব নাকচ ইইউর

বরিস জনসনের প্রস্তাবে আছে, ব্রেক্সিটের পরও উত্তর আয়ারল্যান্ড খাদ্য, শিল্পজাত পণ্য ও পশু সম্পদের ক্ষেত্রে ইইউর একক বাজার ব্যবস্থার মধ্যে থাকবে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের অন্য অংশের মতোই তারা শুল্ক ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাবে। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের সীমানার কী হবে সেটি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বরিসের প্রস্তাব হলো—উত্তর আয়ারল্যান্ড ইইউর অংশ থাকতে চায় কিনা সে ব্যাপারে সেখানকার এমপিদের প্রতি চার বছর পরপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। বরিস বলেছেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই ইইউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিমত ঘোচাতে তিনি সত্যিকার অর্থেই চেষ্টা করেছেন। বরিস জনসনের প্রস্তাবে ইইউ সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক।

 

g পার্লামেন্ট ফের স্থগিত হবে!

ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছিল, সরকার ফের পার্লামেন্ট স্থগিত করতে চায়। আগামী ৮ অক্টোবরের অধিবেশন চলার পর বন্ধ থাকবে। এরপর ১৪ অক্টোবর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশন ফের শুরু হবে। তবে স্থগিত করতে আবার রানির কাছে আবেদন জানানো হবে। তবে রানি অনুমোদন

দেবেন কিনা সেটি নিশ্চিত নয়। এর আগে পার্লামেন্ট স্থগিতে

বরিসের সিদ্ধান্ত

অবৈধ ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সরকার বাধ্য হয়ে ফের পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকে এবং ব্রেক্সিটের সময় বাড়াতে একটি প্রস্তাব পাস হয় যা পরে আইনে পরিণত হয়।

 

g সংকট না জয়

স্কটল্যান্ডের আদালতে বরিসের সরকার একটি নথি জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকার ইইউর কাছে ব্রেক্সিটের সময় বাড়ানোর আবেদন জানাবে। ১৯ অক্টোবরের মধ্যে যদি চুক্তি না হয় তাহলে সময় বাড়ানোর আবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী বরিস। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বরিস আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, ব্রেক্সিটের জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হবে না। ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ইইউ ত্যাগ করবে ব্রিটেন। সেটা চুক্তি ছাড়া কিংবা চুক্তিসহ হতে পারে। আদালতে জমা দেওয়া নথি প্রকাশ করতে রাজি নয় সরকার। এদিকে সরকার সময় বাড়ানোর আবেদন না করলে বিরোধীরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করতে। আর সেক্ষেত্রে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানে একটা সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সময় বাড়ানোর আবেদন জানাবেন। এক্ষেত্রে তার মূল অস্ত্র হাঙ্গেরি। দেশটি ব্রিটেন আবেদন জানালেও তাতে সাড়া দেবে না। অথচ এই প্রস্তাব ইইউতে পাস করাতে হলে সব দেশের অনুমোদন লাগবে। বরিসকে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টও অরবান আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা প্রস্তাবে ভেটো দেবেন। ইইউর ২৭টি দেশের ভেটো ক্ষমতা আছে। যদি হাঙ্গেরি সত্যিই ভেটো দেয় তাহলে জয় হবে বরিসের। অর্থাত্ ইইউ থেকে ব্রিটেন চুক্তি ছাড়াই বের হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে বরিসের আইনও ভাঙা লাগবে না। আবার তার অঙ্গীকারেরও রক্ষা হবে। কিন্তু বরিস যদি তার পরিকল্পনায় সফল না হতে পারেন তাহলে তাকেও দুই পূর্বসূরির মতো বিদায় নিতে হতে পারে। এমনকি জেলেও যেতে হতে পারে! আগামী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। উপস্থিত নেতাদের চুক্তিসহ ব্রেক্সিট, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট অথবা ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানোর মধ্যে কোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে।